ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে মারধরের শিকার কলেজছাত্র, তিনজনের নামে মামলা
ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে মারধরের শিকার কলেজছাত্র, মামলা

রাজশাহী মহানগরীর শাহমখদুম থানা মোড় এলাকায় এক ব্যক্তির কাছ থেকে জোরপূর্বক টাকা আদায়ের অভিযোগের ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে মারধরের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন এক কলেজছাত্র। এ ঘটনায় রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের স্থগিত কমিটির ছাত্রদল সভাপতি শাকিল মণ্ডলসহ তিনজনের নামে মামলা হয়েছে।

মামলার বিবরণ

মামলার বাদী শাহিন আলী (২৫) রাজশাহী কলেজের শিক্ষার্থী এবং নগরের পবাপাড়া এলাকার বাসিন্দা। শাহমখদুম থানায় করা মামলায় শাকিল মণ্ডল, মো. পলাশ ও আজিজুল ইসলামকে আসামি করা হয়েছে।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, ৩ জুলাই দুপুর ১২টার দিকে শাহমখদুম থানা মোড়ের একটি বিকাশ এজেন্টের দোকানে টাকা তুলতে যান শাহিন আলী। সেখানে ভিড়ের মধ্যে প্রায় ৫০ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে আতঙ্কিত অবস্থায় দেখতে পান তিনি। ওই ব্যক্তি তাঁকে জানান, ভয়ভীতি দেখিয়ে তাঁর কাছে টাকা দাবি করা হচ্ছে। কিছুক্ষণ পর বিকাশের মাধ্যমে ৩০ হাজার টাকা আসে। তবে ওই ব্যক্তি নিজে টাকা না নিয়ে শাকিলকে ডেকে তাঁর হাতে টাকা দেওয়ার কথা বলেন। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় শাহিন মুঠোফোনে ভিডিও ধারণের চেষ্টা করেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হামলার ঘটনা

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, ভিডিও ধারণের বিষয়টি টের পেয়ে শাকিল তাঁর মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে ভিডিও মুছে ফেলেন। পরে ফোন ফেরত চাইলে শাকিল, পলাশ, আজিজুল ইসলামসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজন কাঠের বাটাম দিয়ে তাঁর মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। এতে তিনি আহত হন। হামলার সময় তাঁর প্রায় দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি মুঠোফোন সেটও নষ্ট করা হয়।

বাদী শাহিন অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা তাঁকে ঘটনাস্থল থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ারও চেষ্টা করেন। তাঁর চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে তাঁরা মুঠোফোনটি ফিরিয়ে দিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যান।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অন্য ভুক্তভোগীর বক্তব্য

এদিকে ঘটনাস্থলে টাকা দিতে বাধ্য হওয়া দুলাল মণ্ডল (৫৫) দাবি করেন, তাঁকে সারা রাত আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। একপর্যায়ে তাঁকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ করা হয় এবং ছয় লাখ টাকা দাবি করা হয়। পরে লোকলজ্জার ভয়ে বিকাশের মাধ্যমে ৩০ হাজার টাকা পাঠানোর পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি জয়পুরহাটে চিকিৎসাধীন। তবে এ ঘটনায় তিনি এখনো কোনো মামলা করেননি। এ ছাড়া তিনি আর কিছু বলতে রাজি হননি।

আসামির বক্তব্য

এসব অস্বীকার করে শাকিল মণ্ডল বলেন, দোকানের সামনে একটি ঝামেলা চলছিল। ব্যক্তিগত কাজে সেখানে গিয়ে তিনি একজনকে ভিডিও ধারণ করতে দেখেন। ভিডিও না করতে বলায় তাঁর সঙ্গে তর্ক হয়। পরে স্থানীয় লোকজন ওই ব্যক্তিকে মারধর করেন। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সঙ্গে তিনি জড়িত নন। দুলাল মণ্ডলকে মারধর ও টাকা নেওয়ার অভিযোগ সম্পর্কেও তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেন।

পুলিশের বক্তব্য

শাহমখদুম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, "শাহিন আলীকে মারধরের অভিযোগে একটি মামলা হয়েছে। অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"