ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের কিসমত আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জোরপূর্বক চুল কেটে দেওয়ার ঘটনায় বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও অভিভাবকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার সকালে এই ঘটনা ঘটে।
ঘটনার বিবরণ
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মামুনুর রশিদ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে একটি শ্রেণিকক্ষে ডেকে আনেন। এরপর বাইরে থেকে নাপিত এনে শ্রেণিকক্ষের ভেতরেই শিক্ষার্থীদের জোর করে চুল কাটানো শুরু করেন। খবর ছড়িয়ে পড়লে অভিভাবকেরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি শুরু করেন। একপর্যায়ে তা হাতাহাতি ও হট্টগোলে রূপ নেয়।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বক্তব্য
ভুক্তভোগী অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী আফিন হোসেন বলেন, ‘আমাদের কয়েকজনকে ডেকে নিয়ে জোরপূর্বক চুল কেটে দেওয়া হয়েছে।’ আরেক শিক্ষার্থী সাকিন হোসেন বলেন, ‘পাশের বাজার থেকে নাপিত ডেকে এনে আমাদের চুল কেটে দেওয়া হয়েছে।’
এক শিক্ষার্থীর বাবা আব্দুল মালেক মোল্লা বলেন, ‘সভাপতি এই কাজটি ঠিক করেননি। তিনি অতি-কর্তৃত্ব দেখিয়েছেন। এই ঘটনায় অভিভাবকেরা ক্ষুব্ধ হয়েছেন।’
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা
অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মামুনুর রশিদ বলেন, ‘গতকাল (বুধবার) অভিভাবকদের ডেকে একটি মিটিং করা হয়েছিল। সেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যারা এলোমেলো চুল রাখে, তাদের সবার সুন্দর করে চুল কেটে দেওয়া হবে এবং যারা বিভিন্ন অসংগতিপূর্ণ লেখার ফেস মাস্ক পরে আসে, সেটিও বন্ধ করা হবে। সেই মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই এটি করা হয়েছে। আমি স্কুলের ভালোর জন্যই কাজটি করেছি।’ হাতাহাতির বিষয়ে তিনি দাবি করেন, একজন অভিভাবক এসে মূলত এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটিয়েছেন।
কিসমত আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহিদুজ্জামান বলেন, ‘একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে গেছে, যা মোটেও কাম্য ছিল না। তবে সভাপতি মহোদয় মূলত ভালো উদ্দেশ্য নিয়েই এই উদ্যোগটি নিয়েছিলেন। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আমরা সবার সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করছি।’
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার প্রতিক্রিয়া
ঝিনাইদহ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা লুৎফর রহমান বলেন, ‘আমি বিষয়টা সম্পর্কে আগে অবগত ছিলাম না। আপনাদের মাধ্যমে যেহেতু বিষয়টা জানলাম, তাই তদন্ত করে দেখছি। তবে আইনগতভাবে শিক্ষার্থীদের জোর করে চুল কেটে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’



