এলডিসি উত্তরণে দ্রুত সংস্কার জরুরি: আইসিসিবি সভাপতি
এলডিসি উত্তরণে দ্রুত সংস্কার জরুরি: আইসিসিবি সভাপতি

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণ–পরবর্তী সময়ে দেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশের (আইসিসিবি) সভাপতি মাহবুবুর রহমান। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে আইসিসি বাংলাদেশের ৩১তম বার্ষিক কাউন্সিল সভায় তিনি এ কথা বলেন।

এলডিসি-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ ও সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা

আইসিসিবি সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, বাংলাদেশকে এলডিসি-পরবর্তী সময়ের চ্যালেঞ্জ সফলভাবে মোকাবিলা করে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে হলে দ্রুত কাঠামোগত সংস্কার ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সরকার ও বেসরকারি খাতের মধ্যে আরও কার্যকর সহযোগিতা গড়ে তোলা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে শিগগির অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) এবং মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সম্পন্ন করাও খুবই জরুরি।

সভায় উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিরা

আইসিসি বাংলাদেশের ৩১তম বার্ষিক কাউন্সিল সভায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ ইনস্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইএ) সভাপতি গ্লোবাল ইনস্যুরেন্সের চেয়ারম্যান সাঈদ আহমেদ; আইসিসি বাংলাদেশের পর্ষদ সদস্য ও এনভয় টেক্সটাইলের চেয়ারম্যান কুতুবউদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রির (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী (পারভেজ), মীর আক্তার হোসেন লিমিটেডের এমডি মীর নাসির হোসেন, বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, ফুটওয়্যার লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর, মেট্রো চেম্বারের সহসভাপতি ও ট্রান্সকম গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সিমিন রহমান, বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ফজলুল হক প্রমুখ।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

আইসিসি বাংলাদেশের সভাপতি বলেন, বাংলাদেশ তার অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। শক্তিশালী প্রবাসী আয়, স্থিতিশীল রপ্তানি এবং অবকাঠামো উন্নয়নের ধারাবাহিকতার কারণে দেশের অর্থনীতি উল্লেখযোগ্য স্থিতিশীলতা দেখিয়েছে। তবে একই সঙ্গে কিছু অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত দুর্বলতা এবং বৈশ্বিক নানা চ্যালেঞ্জ এখনো অর্থনীতির জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়। এসব মোকাবিলায় সময়োপযোগী ও কার্যকর সংস্কার বাস্তবায়ন জরুরি।

ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে আইসিসি বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) চলতি বছর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রায় ৪ দশমিক ৭ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে। সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ও প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে আগামী বছরগুলোতে প্রবৃদ্ধি আরও বাড়তে পারে।

অবকাঠামো উন্নয়নের প্রস্তাব

দেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে অবকাঠামো উন্নয়নের গুরুত্ব তুলে ধরে আইসিসি বাংলাদেশের সভাপতি ঢাকা-চট্টগ্রামের মধ্যে একটি আধুনিক এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, এ ধরনের একটি প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পণ্য পরিবহন আরও দ্রুত ও সহজ হবে। এতে পরিবহন ব্যয় কমবে। রপ্তানি খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়বে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে।