রাঙামাটিতে টানা ভারী বর্ষণে ২ জনের মৃত্যু, শতাধিক স্থানে পাহাড় ধস
রাঙামাটিতে টানা ভারী বর্ষণে ২ জনের মৃত্যু, শতাধিক পাহাড় ধস

রাঙামাটিতে টানা ভারী বর্ষণে পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। পাহাড়ি ঢলের পানিতে ভেসে গিয়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) জেলার শতাধিক স্থানে পাহাড় ধস হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

দুইজনের মৃত্যু ও নিখোঁজ

স্থানীয় প্রশাসন জানায়, পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় তলিয়ে যাচ্ছে বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ছেড়ে লোকজনকে আশ্রয় কেন্দ্রে গিয়ে অবস্থান নিতে নির্দেশনা দিচ্ছে প্রশাসন। পাহাড়ি ঢলের পানিতে ভেসে গিয়ে রাঙামাটি সদরের মগবান এবং বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া ইউনিয়নে প্রাণ হারিয়েছেন দুজন।

৭ জুলাই (মঙ্গলবার) বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া ইউনিয়নে পাহাড়ি ঢলের পানির তোড়ে ভেসে গিয়ে মো. বদি মিয়া নামে এক ব্যবসায়ী নিখোঁজ হন। বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে ইউনিয়নের গোয়াইনছড়ি এলাকা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয় বলে জানান ওসি ওসমান গনি। এছাড়া রাঙামাটি সদর উপজেলার মগবান ইউনিয়নে নদী পারাপারের সময় পানির স্রোতে ভেসে গিয়ে দলমনি চাকমা নামে একজন মারা গেছেন। দলমনি মঙ্গলবার নদী পারাপারের সময় পানির স্রোতে ভেসে গিয়ে নিখোঁজ হন। বৃহস্পতিবার সকালের দিকে ওই এলাকা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয় বলে জানায় কোতোয়ালি থানা পুলিশ।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পাহাড় ধস ও সড়ক যোগাযোগ বিঘ্নিত

বৃহস্পতিবার সকালের দিকে কম বৃষ্টিপাত হলেও দুপুর থেকে ভারী বর্ষণ শুরু হয়। এতে বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধস হয়ে সড়ক যোগাযোগ বিঘ্নিত হয়। প্রশাসনের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী জেলার বিভিন্ন উপজেলার ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বাঘাইছড়ি, বরকল ও বিলাইছড়িতে বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি হচ্ছে। বাঘাইছড়ি-মারিশ্যা-দীঘিনালা সড়কের ৩ কিলোমিটার এলাকায় রাস্তা ধসে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে বলে জানা গেছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কাউখালী উপজেলার বেতবুনিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ও টিলা ধসে রাস্তায় যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। এলজিইডি, ইউনিয়ন পরিষদ ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় সেগুলো অপসারণ করে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে। কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

প্রশাসনের তৎপরতা ও সতর্কতা

জেলা সদরসহ প্রতিটি উপজেলায় মাইকিং করে সতর্কতা প্রচার করা হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ও আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করে পরিস্থিতি তদারকিসহ দুর্গত লোকজনের পাশে দাঁড়াচ্ছেন রাঙামাটির সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনিক কর্মকর্তারা। রাঙামাটি সদর ও কাপ্তাইসহ বিভিন্ন দুর্গত এলাকা ও আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শনকালে সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান বলেন, “তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার যেকোনো দুর্যোগে জনগণের পাশে আছে, থাকবে।” তিনি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঝুঁকিপূর্ণ লোকজনকে দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে গিয়ে অবস্থান নিতে অনুরোধ জানান।

সাজেকে আটকা পর্যটকদের উদ্ধার

সাজেকে আটকাপড়া ৫৬১ পর্যটকের মধ্যে বৃহস্পতিবার ১৫০ জন সেনাবাহিনীর সহায়তায় সাজেক ত্যাগ করে চলে গেছেন। বাকিদের বিষয়ে পরবর্তীতে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) শেখ সালমান।