মারামারিতে অচল ওসমানী হাসপাতাল সচল হচ্ছে শনিবার থেকে
মারামারিতে অচল ওসমানী হাসপাতাল সচল হচ্ছে শনিবার

সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসক, শিক্ষার্থী ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে দফায় দফায় মারামারির ঘটনায় হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থা প্রায় অচল হয়ে পড়েছিল। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকের পর নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে শনিবার (১১ জুলাই) থেকে চিকিৎসকরা কর্মস্থলে ফেরার ঘোষণা দেওয়ায় হাসপাতালটি সচল হচ্ছে।

মারামারির ঘটনা ও হাসপাতাল অচল

গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দিবাগত রাতে এক শিশুরোগীর স্বজনদের সঙ্গে কথা কাটাকাটির জেরে কর্তব্যরত ইন্টার্ন চিকিৎসক, শিক্ষার্থী ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে ইন্টার্ন চিকিৎসক তাসপিয়ানুল হক ও রেজা নিলয় এবং রোগীর স্বজন নগরের বালুচর এলাকার আবরার হোসেন ও জাহিদসহ উভয়পক্ষের অন্তত ছয়জন আহত হন।

এ হামলার প্রতিবাদে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা একাডেমিক শাটডাউন ঘোষণা করলে হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থা স্থবির হয়ে পড়ে। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গতকাল বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের (আইডিএ) দুপুর ১২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত পাঁচ ঘণ্টার একটি দীর্ঘ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বৈঠকে উপস্থিতি ও সিদ্ধান্ত

বৈঠকে সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. ইমদাদ হোসেন চৌধুরী এবং সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের প্রতিনিধি হিসেবে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মো. মাইনুল জাকির উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সাধারণ সম্পাদক ডা. রাকিন হান্নান জানান, আলোচনার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্দিষ্ট শর্ত ও নিরাপত্তা আশ্বাসে শনিবার থেকে সব ইন্টার্ন চিকিৎসক কর্মস্থলে যোগদান করবেন। এ লক্ষ্যে প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সময় দেওয়া হয়েছে এবং শনিবারই পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে তাদের আলাদা বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

চিকিৎসকদের দাবি

চিকিৎসকদের উত্থাপিত দাবির মধ্যে রয়েছে হামলায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া, হাসপাতালে স্থায়ী নিরাপত্তা জোরদার করা এবং প্রয়োজনে পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন করা। এছাড়া বহিরাগতদের প্রবেশ বন্ধ, রোগীর সঙ্গে একজনের বেশি অ্যাটেনডেন্ট প্রবেশ নিষিদ্ধ করা, পাস কার্ড ব্যবস্থা কার্যকর করা এবং গেটগুলোতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করার দাবি জানানো হয়েছে। আইডিএ স্পষ্ট বলছে, এসব দাবির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন ও দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে তারা আবারও কঠোর কর্মবিরতিতে যেতে বাধ্য হবেন।

পুলিশের বক্তব্য

কোতোয়ালি থানার ওসি খান মো. মাইনুল জাকির জানান, পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ঘটনার তদন্ত করছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।