জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএড শিক্ষাক্রমে বড় পরিবর্তন: ১২ সপ্তাহের বাধ্যতামূলক টিচিং প্র্যাকটিস
বিএড শিক্ষাক্রমে পরিবর্তন: ১২ সপ্তাহের বাধ্যতামূলক টিচিং প্র্যাকটিস

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএড শিক্ষাক্রমে আমূল পরিবর্তন: হাতে-কলমে শিখনে জোর

দেশের মাধ্যমিক শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও উন্নয়নের লক্ষ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় তার ব্যাচেলর অব এডুকেশন (বিএড) শিক্ষাক্রমের রূপরেখায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। এই নতুন কারিকুলামে তত্ত্বীয় পড়াশোনার চেয়ে হাতে-কলমে শিখন, বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং ফলাফলভিত্তিক শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ বছর থেকেই কার্যকর হতে যাওয়া এই কাঠামোতে প্রশিক্ষণার্থী শিক্ষকদের জন্য মোট ১২ সপ্তাহের বিদ্যালয়ভিত্তিক অনুশীলন বা টিচিং প্র্যাকটিস বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যা আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি।

নতুন কাঠামো ও সেমিস্টার বিভাজন

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এক বছর মেয়াদি বিএড কোর্স এখন থেকে দুটি সেমিস্টারে সম্পন্ন হবে। প্রথম সেমিস্টারে চার সপ্তাহ এবং দ্বিতীয় সেমিস্টারে টানা আট সপ্তাহ বিভিন্ন বিদ্যালয়ে উপস্থিত থেকে সরাসরি পাঠদান অনুশীলন করতে হবে প্রশিক্ষণার্থীদের। এই নতুন শিক্ষাক্রম বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নির্দেশিত ‘আউটকাম বেজড এডুকেশন’ বা ফলাফলভিত্তিক শিক্ষা কাঠামোর আদলে প্রণয়ন করা হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নে সহায়ক হবে।

বিশদ শিক্ষাক্রম ও বিষয়বস্তু

নতুন রূপরেখা অনুযায়ী, বিএড প্রোগ্রামটি দুটি সেমিস্টারে বিভক্ত থাকবে। প্রথম সেমিস্টার চলবে ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত এবং দ্বিতীয় সেমিস্টার ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। পুরো কোর্সে মোট ৬০ ক্রেডিট থাকবে, যার মধ্যে প্রতি সেমিস্টারে ৩০ ক্রেডিট করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রথম সেমিস্টারে চারটি আবশ্যিক বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে:

  • মাধ্যমিক শিক্ষা
  • সক্রিয় শিখনপদ্ধতি ও কৌশল
  • শিখন ও শিখনযাচাই
  • শিক্ষায় বিকাশমান তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি

এ ছাড়া প্রশিক্ষণার্থীদের নিজস্ব শাখা (মানবিক, বিজ্ঞান বা ব্যবসায় শিক্ষা) অনুযায়ী দুটি শিক্ষণ বিষয় নির্বাচন করতে হবে। দ্বিতীয় সেমিস্টারে আবশ্যিক বিষয় হিসেবে থাকবে ‘জেন্ডার, বৈশ্বিক নাগরিকত্ব ও একীভূত শিক্ষা’ এবং ‘শিক্ষায় গবেষণা’। পাশাপাশি প্রাথমিক শিক্ষা, চারু ও কারুকলা বা কৃষিশিক্ষার মতো বিষয়গুলো থেকে যেকোনো একটি ঐচ্ছিক বিষয় হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।

মূল্যায়ন পদ্ধতি ও আধুনিক কৌশল

শিক্ষার্থীদের মেধা যাচাইয়ে স্বচ্ছ ও আধুনিক গ্রেডিং সিস্টেম চালু করা হয়েছে। প্রতিটি বিষয়ে ১০০ নম্বরের পরীক্ষা হবে, যার মধ্যে ৬০ নম্বর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক পরিচালিত কেন্দ্রীয় লিখিত পরীক্ষার জন্য এবং বাকি ৪০ নম্বর কলেজের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নের ওপর বরাদ্দ থাকবে। লেটার গ্রেডিং পদ্ধতিতে ৮০ শতাংশ বা তার বেশি নম্বর পেলে ‘এ প্লাস’ (জিপিএ ৪.০০) হিসেবে গণ্য করা হবে। কোর্সের শেষে শিক্ষার্থীদের একটি মৌখিক পরীক্ষা এবং ছয়টি আবশ্যিক বিষয়ের ওপর দুই ঘণ্টার সমন্বিত পরীক্ষাতেও অংশ নিতে হবে।

নতুন শিক্ষাক্রমে প্রথাগত বক্তৃতার পাশাপাশি সক্রিয় শিখনপদ্ধতির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দলীয় কাজ, সিমুলেশন, রোল প্লে, মাইন্ড ম্যাপিং এবং ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরির মতো আধুনিক কৌশল। শিক্ষা উপকরণ হিসেবে মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর, ইন্টারনেট ও ই-লার্নিং প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে, যা শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে।