এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন ও টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ শীতকালীন এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম শুরু
এইউডব্লিউ ও টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের শীতকালীন এক্সচেঞ্জ শুরু

এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন ও টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ শীতকালীন এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম শুরু

এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন (এইউডব্লিউ) এবং জাপানের টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউটোকিও) মধ্যে যৌথ শীতকালীন এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম-২০২৬ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। আজ রোববার চট্টগ্রাম নগরের চট্টেশ্বরী রোডে অবস্থিত এইউডব্লিউর মাশা আমিনি ক্যাম্পাসে এ প্রোগ্রামের উদ্বোধনী পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।

প্রোগ্রামের উদ্দেশ্য ও অংশগ্রহণকারী

১২ দিনের এ কর্মসূচিতে দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে বসে অভিবাসন, বাস্তুচ্যুতি, শ্রম গতিশীলতা ও জলবায়ু সহনশীলতা এর মতো জটিল বাস্তবতা নিয়ে গভীর আলোচনা করবেন। প্রোগ্রামের আওতায় টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের ১০ জন ছাত্রী ও ৫ জন ছাত্র এইউডব্লিউতে এসেছেন, সঙ্গে রয়েছেন দুজন অধ্যাপক।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইউটোকিওর অধ্যাপক মেরি ইয়োশোহিহারা, শো শিমোয়ামাদা, এইউডব্লিউর সহকারী অধ্যাপক অয়ন সাহা, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক তপু চৌধুরী শিক্ষার্থীদের সামনে প্রোগ্রামের উদ্দেশ্য ও করণীয় তুলে ধরেন। পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন স্থপতি ও নগর-পরিকল্পনাবিদ জেরিনা হোসেন, যিনি শিক্ষার্থীদের নিয়ে শহরের বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণ করাবেন।

প্রোগ্রামের কার্যক্রম ও ভ্রমণ পরিকল্পনা

এইউডব্লিউ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোহিঙ্গা সংকট ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব—এই দুই বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশকে একটি ‘লিভিং ল্যাবরেটরি’ হিসেবে দেখা হবে। ক্যাম্পাসভিত্তিক লেকচারের পাশাপাশি থাকবে সরেজমিন অভিজ্ঞতা।

শিক্ষার্থীরা সীতাকুণ্ডের জাহাজভাঙা শিল্প এলাকা, চট্টগ্রামের তৈরি পোশাক কারখানা প্যাসিফিক জিনস, উন্নয়ন সংস্থা ‘ঘাসফুল’ এবং ফটিকছড়ির নেপচুন চা বাগান পরিদর্শন করবেন। এসব ভ্রমণের মধ্য দিয়ে অভ্যন্তরীণ শ্রম অভিবাসন, ঝুঁকিপূর্ণ কর্মপরিবেশ ও গ্রামীণ জীবিকার বাস্তবতা কাছ থেকে দেখার সুযোগ মিলবে।

আয়োজন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

ফাস্ট রিটেইলিং ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে পরিচালিত এ কর্মসূচির আয়োজক এইউডব্লিউ ও ইউটোকিও। গত বছর গ্রীষ্মকালীন অধিবেশন হয়েছিল টোকিওতে; এবার শীতকালীন আয়োজন বসছে চট্টগ্রামে। আগামী জুলাইয়ে এইউডব্লিউর ১৫ ছাত্রী টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবেন, যা প্রোগ্রামের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, পাঁচ বছর ধরে এই প্রোগ্রাম শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষা, সংস্কৃতিসহ নানা বিষয়ে মিথস্ক্রিয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করবে।