রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে জ্বালানি সংকট: শিক্ষার্থীদের উদ্যোগ ও স্থানীয় সমাধানের আহ্বান
জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়টি এখন জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। গত ১৯ জানুয়ারি রাতে রংপুরের রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে জ্বালানিসংকট নিয়ে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সভায় উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন অনুষদ ও বিভাগের শিক্ষার্থীরা, যারা জ্বালানি সংকটের গভীর মূল ও এর সমাধানের পথ নিয়ে সরব হয়েছেন।
শিক্ষার্থীদের উদ্যোগ ও প্রতিশ্রুতি
আলোচনায় শিক্ষার্থীরা একমত পোষণ করেন যে, জ্বালানি সংকট কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং দীর্ঘদিনের নীতি ও তোষামোদের ফল। তারা গ্রাম, পাড়া ও মহল্লায় জ্বালানি পর্যবেক্ষণ দল গঠন করার প্রতিশ্রুতি দেন। বিদ্যুৎ বিল আগের বিলের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা, মিটার বদলের নামে ফটকাবাজি রোধ এবং জীবাশ্ম জ্বালানির বদলে পুনর্ব্যবহারযোগ্য জ্বালানির পক্ষে জনমত গড়ে তোলার বিষয়ে তাদের দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত হয়।
হলের ডাইনিং সমস্যা ও অপরাধবোধ
রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলিতে ডাইনিং চালু না থাকায় শিক্ষার্থীদের লুকিয়ে-চুরিয়ে রান্না করতে হয়। হলের আইনে রান্নার জন্য হিটার বা রাইস কুকার ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়। মাঝেমধ্যে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা রুমে রুমে 'রেইড' চালিয়ে অবৈধ হিটার উদ্ধার করেন, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে অপরাধবোধ ও মানসিক চাপ সৃষ্টি করে। বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য এই সমস্যা আরও প্রকট, কারণ তারা বাইরে খাওয়ার সুযোগ সীমিত।
স্থানীয় সমাধানের প্রস্তাব
আলোচনার একপর্যায়ে দীপালি নামের এক শিক্ষার্থী সাহসিকতার সঙ্গে একটি সমাধান প্রস্তাব করেন। তিনি হলগুলোর ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপনের পরামর্শ দেন, যা থেকে প্রতিটি তলায় কিচেন কাম ডাইনিং রুমে চার-পাঁচটি চুলায় সংযোগ দেওয়া সম্ভব। প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের শিক্ষার্থী হামিদুলের মতো শিক্ষার্থীরা এই কাজে সহায়তা করতে পারেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সদিচ্ছা ও বাস্তবায়নের সম্ভাবনা
এই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। যদিও বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতি, আর্থিক ব্যয় ও ভবনের নকশা পরিবর্তনের মতো চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তবে সদিচ্ছা থাকলে এগুলো অতিক্রম করা সম্ভব। এই সমস্যা শুধু রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়, দেশের প্রায় সব ছাত্রীনিবাসে বিদ্যমান। উপাচার্যরা চাইলে ন্যায্য সমাধানের পথে অগ্রসর হতে পারেন, যা শিক্ষার্থীদের অপরাধবোধ থেকে মুক্তি দিতে সহায়ক হবে।
শিক্ষার্থীরা জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় স্থানীয়ভাবে পদক্ষেপ নেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেন, 'থিঙ্ক গ্লোবালি, অ্যাক্ট লোকালি' বাণীকে সামনে রেখে। তাদের এই উদ্যোগ জ্বালানি সাশ্রয়ী সমাজ গঠনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
