ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক ক্যালেন্ডার সংকোচন: সেশনজট নিরসনে ১২ মাসের বর্ষ ১০ মাসে, ৬ মাসের সেমিস্টার ৫ মাসে
ঢাবিতে সেশনজট নিরসনে বর্ষ ও সেমিস্টার সংক্ষিপ্তকরণ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক কার্যক্রম দ্রুততর করার উদ্যোগ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিনের সেশনজট সমস্যা নিরসন ও একাডেমিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। 'লস রিকভারি প্ল্যান' এর আওতায় ১২ মাসের বর্ষ ১০ মাসে এবং ৬ মাসের সেমিস্টার ৫ মাসে শেষ করার পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার গতি বাড়ানো এবং সেশনজট কমিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিস্তারিত পরিবর্তন ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া

বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি চিঠিতে এই সংকোচন পরিকল্পনার বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে। চিঠি অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামের জন্য সেমিস্টার পদ্ধতিতে ৩য় থেকে ৮ম পর্যন্ত মোট ৬টি সেমিস্টার প্রতিটি ৬ মাসের পরিবর্তে ৫ মাসে সম্পন্ন করা হবে। একইভাবে, বার্ষিক পদ্ধতিতে ২য়, ৩য় ও ৪র্থ বর্ষ প্রতিটি ১২ মাসের বদলে ১০ মাসে শেষ করার সুপারিশ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট অনুষদ, বিভাগ ও ইনস্টিটিউটগুলিকে তাদের বর্তমান একাডেমিক অবস্থা বিবেচনা করে নতুন একাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রণয়ন করতে হবে। এজন্য প্রতিটি বিভাগ ও ইনস্টিটিউটকে তাদের সিলেবাস পরিমার্জন করে প্রতিটি সেমিস্টার ৫ মাস এবং প্রতিটি বর্ষ ১০ মাস উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে। এই প্রক্রিয়ায় শিক্ষা কার্যক্রম আরও দক্ষ ও সময়ানুবর্তী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ছুটির সময়সূচী ও বিশেষ ব্যবস্থা

নতুন পরিকল্পনায় ছুটির সময়সূচীতেও কিছু সমন্বয় আনা হয়েছে। গ্রীষ্মকালীন ছুটি আগামী ১ থেকে ২১ জুন পর্যন্ত অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। তবে একাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রণয়নের স্বার্থে শুধুমাত্র জুন ২১ তারিখ একদিন সেমিস্টার পদ্ধতিতে ইন-কোর্স পরীক্ষা গ্রহণের অনুমতি দেওয়া হবে। শীতকালীন ছুটি ১০ থেকে ২৭ ডিসেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে, যা পূর্বের তুলনায় কিছুটা সংক্ষিপ্ত হতে পারে।

কেন্দ্রীয়ভাবে প্রণীত একাডেমিক ক্যালেন্ডার

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামের ১ম বর্ষের জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে একটি একাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রণয়ন করা হয়েছে। এই ক্যালেন্ডার সেমিস্টার ও বার্ষিক উভয় পদ্ধতির জন্য প্রযোজ্য হবে। সব বিভাগ ও ইনস্টিটিউটকে অবশ্যই এই কেন্দ্রীয় ক্যালেন্ডার অনুসরণ করতে হবে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক কার্যক্রমের সমন্বয় ও মান নিশ্চিত করবে।

এই উদ্যোগের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তার শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করে তোলার পথে অগ্রসর হচ্ছে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও প্রশাসনের সমন্বিত প্রচেষ্টায় সেশনজট দূরীকরণ এবং উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন সম্ভব হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন।