এতিম মাদ্রাসা ছাত্রের চিঠিতে কষ্টের কথা, বাকৃবি ছাত্রনেতার মানবিক উদ্যোগে প্রশংসা
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি চিঠি ছড়িয়ে পড়ে, যা একটি এতিম মাদ্রাসা ছাত্রের মায়ের কাছে লেখা। চিঠিতে শিশুটি লিখেছে, ‘আম্মা, আমারে একটা সাবান দিও। তিন দিন আগে সাবান শেষ। একটা সাদা পাঞ্জাবি দিও, আগেরটা ছিঁড়ে গেছে। ইফতারে বুট-মুড়ি দেয়, রাতে ভাত দেয় না। আমার জন্য কিছু ভালো খাবার আইনো। একটা মশারি আর চাদর দিও, মশা খুব কামড়ায়।’ এই মর্মস্পর্শী কথাগুলো নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন তোলে, অনেকে পোস্টটি শেয়ার করে সমবেদনা জানান।
ছাত্রনেতার দ্রুত পদক্ষেপ ও অনুসন্ধান
এই লেখাগুলো দেখে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ছাত্রদলের আহ্বায়ক আতিকুর রহমান দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। প্রায় দুই দিন ধরে অনুসন্ধানের পর তিনি রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে শিশুটির পরিবারকে খুঁজে পান। খোঁজ পাওয়ার পর তিনি সরাসরি পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন এবং এতিম শিশুটির সাথে কথা বলে তার অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারেন।
এরপর আতিকুর রহমান চিঠিতে উল্লেখ করা প্রতিটি চাহিদা পূরণের জন্য উদ্যোগ নেন। তিনি শিশুটির জন্য পর্যাপ্ত সাবান, খাবার, ঈদের নতুন পোশাক হিসেবে সাদা পাঞ্জাবি, মশারি, বিছানার চাদরসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সামগ্রী তুলে দেন। শুধু তা-ই নয়, তিনি শিশুটির পড়াশোনার সম্পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করেন, যা একটি ব্যতিক্রমী মানবিক উদ্যোগ হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে।
সামাজিক মাধ্যম ও বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশংসা
এই উদ্যোগটি ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছে। বাকৃবির ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মাহমুদুল হাসান শিকদার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘ধন্যবাদ আতিক। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এই ধরনের কাজে নেতৃত্ব দিচ্ছে, এটি সত্যি গর্বের। আসুন, রমজান মাসে ভালো কাজ করে দেশকে কে বদলে দেই। প্রতিটি মানুষ যেন একজন মানুষের জন্য কিছু করি।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাকৃবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক আতিকুর রহমান বলেন, ‘শিশুটির চিঠিটি পড়ার পর থেকে আমি স্থির থাকতে পারিনি। আমার মনে হয়েছে, শুধু স্ক্রিনে দেখে আফসোস করা আমাদের দায়িত্ব নয়। একজন মানুষ হিসেবে আরেকজন মানুষের বিপদে সরাসরি পাশে দাঁড়ানো আমাদের সবার উচিত।’ তার এই বক্তব্য সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মানবিকতার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এই ঘটনা সমাজে সহমর্মিতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরেছে, বিশেষ করে রমজান মাসে দান-খয়রাত ও সাহায্যের মাধ্যমে দেশকে পরিবর্তনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
