ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাধীনতা দিবসের তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
ঢাবিতে স্বাধীনতা দিবসের তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা সভা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাধীনতা দিবসের তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে 'মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের তাৎপর্য' শীর্ষক একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (২৯ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) মিলনায়তনে এই সভার আয়োজন করা হয়। সভায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন এবং স্বাধীনতার চেতনা ও বর্তমান প্রেক্ষাপট নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন।

উপাচার্যের বক্তব্যে স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য ও চ্যালেঞ্জ

সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন জাতির সর্বোচ্চ গৌরবের বিষয়। তিনি উল্লেখ করেন যে, স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য ছিল সামাজিক বৈষম্য দূরীকরণ এবং অর্থনৈতিক, সামাজিক ও গণতান্ত্রিক মুক্তি নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, স্বাধীনতার প্রকৃত চেতনা তখনই বাস্তবায়িত হবে, যখন প্রতিটি নাগরিক সমান অধিকার, ন্যায়বিচার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ভোগ করতে পারবে

উপাচার্য আরও বলেন, ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনসহ প্রতিটি ঐতিহাসিক অর্জনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তিনি ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের গণহত্যাকে বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বর্বরতার নির্মম উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন। এ সময় তিনি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মরণ করেন এবং তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন। একইসঙ্গে দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আত্মদানকারী শহীদদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অন্যান্য বক্তাদের অংশগ্রহণ ও মতামত

আলোচনা সভায় সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা। শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে বক্তব্য দেন ফার্মেসি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. সেলিম রেজা এবং শিক্ষার্থী প্রতিনিধি হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মুনসী শামস উদ্দিন আহম্মদ।

এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন, তৃতীয় শ্রেণি কর্মচারী সমিতি, কারিগরি কর্মচারী সমিতি, চতুর্থ শ্রেণি কর্মচারী ইউনিয়ন, মুক্তিযুদ্ধা প্রাতিষ্ঠানিক ইউনিট কমান্ড এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শহীদ পরিবার কল্যাণ সমিতির নেতারাও বক্তব্য রাখেন। তাদের বক্তব্যে স্বাধীনতা দিবসের তাৎপর্য ও জাতীয় উন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা নিয়ে আলোকপাত করা হয়।

স্বাধীনতার অর্জন ও ভবিষ্যতের প্রত্যাশা

উপাচার্য বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছরের বেশি সময় পার হলেও প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির মধ্যে এখনও ব্যবধান রয়েছে। তাই বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় সকলকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সমন্বিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, এটি একটি দলগত দায়িত্ব। নিজেকে 'ফ্যাসিলিটেটর' হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, সবার অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করা হবে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে আর কোনো বৈষম্য বা স্বৈরাচার প্রতিষ্ঠিত হবে না এবং নতুন প্রজন্ম সঠিক ইতিহাস জেনে একটি উন্নত ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তুলবে।

স্বাধীনতা দিবসের অন্যান্য আয়োজন

উল্লেখ্য, মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে গত ২৬ মার্চ সকাল ৬টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কেন্দ্রীয় ভবন ও আবাসিক হলে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। সকাল ৬টায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও অ্যালামনাইরা স্মৃতি চিরন্তন চত্বরে সমবেত হন। পরে উপাচার্যের নেতৃত্বে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।

একই দিন বা’দ জোহর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ মসজিদুল জামিআয় শহীদ বুদ্ধিজীবীদের রুহের মাগফেরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়েও আয়োজন করা হয় বিশেষ প্রার্থনার। এছাড়া টিএসসি মিলনায়তনে একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, যা স্বাধীনতা দিবসের আনন্দ ও গৌরবকে প্রতিফলিত করে।