গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের বিক্ষোভ: নাঈম উদ্দিনের ওপর 'পুলিশি হামলা'র ন্যায়বিচার দাবি
নাঈম উদ্দিনের ওপর 'পুলিশি হামলা' নিয়ে গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের বিক্ষোভ

ঢাবি ছাত্রনেতার ওপর 'পুলিশি হামলা' নিয়ে গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের বিক্ষোভ মিছিল

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র ও ছাত্রনেতা নাঈম উদ্দিনের ওপর ‘পুলিশি হামলা’র ন্যায়বিচার দাবিতে বামপন্থী ছাত্র জোট গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট একটি বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করেছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-ছাত্র কেন্দ্রের পায়রা চত্বর থেকে শুরু হয়ে এই মিছিলটি ভিসি চত্বর ও আবাসিক হল এলাকা অতিক্রম করে রাজু স্মারক ভাস্কর্যে গিয়ে শেষ হয়।

মিছিলে উত্থাপিত প্রধান দাবিসমূহ

বিক্ষোভ সমাবেশে সংগঠনটি রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মাসুদের অপসারণ এবং ঘটনায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের দাবি জানায়। সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ছাত্র নাঈম উদ্দিন অভিযোগ করেন যে, কোনো অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার আগেই পুলিশের ‘বেপরোয়া’‘জনবিরোধী’ চরিত্র প্রকাশ পেয়েছে। তিনি বলেন, “আমি নিজেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলাম। পুলিশ যদি তখনও এতটা আক্রমণাত্মক আচরণ করতে পারে, তাহলে সাধারণ মানুষ—রিকশাচালক ও দিনমজুর থেকে শুরু করে গার্মেন্টস কর্মী পর্যন্ত—স্পষ্ট বুঝতে পারছে যে এই রাষ্ট্র জনগণের বিরুদ্ধে কতটা শ্রেণী বৈষম্য ও শ্রেণী শত্রুতা বজায় রাখে।”

বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর নুজিয়া হাসিন রাশার বক্তব্য

সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি নুজিয়া হাসিন রাশা বলেন, আওয়ামী লীগ, তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং নতুন নির্বাচিত বিএনপি সরকারের চরিত্রে কোনো পার্থক্য নেই। রাশা যোগ করেন, “আমরা সেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছি, একটি অন্যায় যা আমরা বিদ্রোহ-পরবর্তী সময় থেকে প্রতিবাদ করে আসছি। নির্বাচিত সরকার আসার পরেও আমরা আবার এখানে দাঁড়াতে বাধ্য হচ্ছি।” তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, ছাত্রদের প্রতিনিধিত্ব করার কথা থাকা ডাকসু (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ) কাজে ব্যর্থ হয়েছে। “আমরা দেখেছি সর্ব মিত্র চাকমা লাঠি তুলে নাগরিকদের মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে। তারা কি নাঈমের পাশে দাঁড়িয়েছে? তারা কি মাসুদের অপসারণ দাবি করেছে? না, তারা তোষণ নীতিতে ব্যস্ত রয়েছে,” তিনি বলেন।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের রফিকুজ্জামান ফরিদের মন্তব্য

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক রফিকুজ্জামান ফরিদ সমাবেশে বলেন, “পুলিশের ইউনিফর্ম বদলাতে পারে, কিন্তু পুলিশের চরিত্র বদলায়নি। আমরা বলেছিলাম শেখ হাসিনা পালিয়েছেন, কিন্তু ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা ঠিকই টিকে আছে।” তার এই মন্তব্যে বিক্ষোভকারীদের মধ্যে তীব্র সমর্থনের প্রতিধ্বনি শোনা যায়, যা ঘটনাটির রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে আরও স্পষ্ট করে তোলে।

এই বিক্ষোভ মিছিলটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্র আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, যেখানে পুলিশি আচরণ ও রাষ্ট্রীয় নীতির সমালোচনা জোরালোভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। ঘটনাটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র অধিকার ও নিরাপত্তা নিয়ে চলমান বিতর্ককে নতুন করে উসকে দিয়েছে, এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা প্রতিরোধে দ্রুত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার ওপর আলোকপাত করেছে।