জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও ট্রেজারার নিয়োগে অভ্যন্তরীণ শিক্ষকদের দাবি
জবি শিক্ষক সমিতির দাবি: উপাচার্য-ট্রেজারার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হতে হবে

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও ট্রেজারার নিয়োগে অভ্যন্তরীণ শিক্ষকদের দাবি

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি একটি জোরালো দাবি উত্থাপন করেছে যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য ও ট্রেজারার যদি সরকারের নীতিগত কারণে পরিবর্তিত হন, তবে তাদের স্থলাভিষিক্ত ব্যক্তিরা অবশ্যই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হতে হবে। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর বারোটায় জবি শিক্ষক সমিতির লাউঞ্জে আয়োজিত একটি সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি স্পষ্টভাবে জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয় এবং শিক্ষক সমিতির অবস্থান তুলে ধরা হয়।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও বর্তমান দাবি

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক বলেন, “২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পরিবর্তন আসে। সেই প্রেক্ষাপটে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্মিলিত উদ্যোগে প্রায় এক মাসব্যাপী আন্দোলন গড়ে ওঠে, যার মূল দাবি ছিল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের মধ্য থেকে উপাচার্য নিয়োগ। এই ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ফলস্বরূপ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রথমবারের মতো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপককে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ প্রদান করে। এটি ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের আত্মমর্যাদা ও স্বায়ত্তশাসনের ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক অর্জন।”

তিনি আরও যোগ করেন, “বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে নিয়োগপ্রাপ্ত উপাচার্য, ট্রেজারারসহ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে রদবদল শুরু হয়েছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়েও প্রশাসনিক উচ্চপর্যায়ে পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। এমতাবস্থায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি সুস্পষ্টভাবে জানাতে চায়— যদি প্রশাসনের উচ্চপদে রদবদল হয়, তবে পূর্বের ন্যায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের মধ্য থেকেই উপাচার্য ও ট্রেজারার নিয়োগ দিতে হবে।”

উপাচার্য নিয়োগের যৌক্তিক কারণসমূহ

জবি থেকে উপাচার্য নিয়োগের পিছনে যৌক্তিক কারণ হিসেবে বেশ কয়েকটি দিক উল্লেখ করা হয়:

  • প্রথমত, একজন উপাচার্য ও ট্রেজারারকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি আদায় এবং সরকারের কাছে প্রতিশ্রুত আবাসন বৃত্তির অর্থ আনয়নের জন্য অভ্যন্তরীণ বাস্তবতা সম্পর্কে সম্যক ধারণা থাকা জরুরি।
  • দ্বিতীয়ত, বাজেট বৃদ্ধি, গবেষণা সম্প্রসারণ ও দ্বিতীয় ক্যাম্পাস দ্রুত বাস্তবায়নে দৃঢ় ও অভিজ্ঞ নেতৃত্ব প্রয়োজন।
  • তৃতীয়ত, বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক সংবেদনশীলতা সম্পর্কে অবগত নেতৃত্ব ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।

শিক্ষক সমিতির চূড়ান্ত অবস্থান

পরিশেষে উল্লেখ করা হয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আর কারও ‘কলোনি’ হবে না। এটি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সুস্পষ্ট ও ঐক্যবদ্ধ অবস্থান। বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য ও ট্রেজারার যদি সরকারের নীতিগত কারণে পরিবর্তিত হন, তবে অবশ্যই তাদের স্থলাভিষিক্ত ব্যক্তিরা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার বাইরের কোনও উপাচার্য বা ট্রেজারার মেনে নেবে না। এই দাবি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন ও আত্মমর্যাদা রক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে শিক্ষক সমিতি মনে করে।