সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে প্রকাশ্যে জলমহালের মাছ লুট, ইজারাদারের ক্ষতির অভিযোগ
সুনামগঞ্জে জলমহালের মাছ লুট, ইজারাদারের ক্ষতি

সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে প্রকাশ্যে জলমহালের মাছ লুটের ঘটনা

সুনামগঞ্জ জেলার শান্তিগঞ্জ উপজেলায় একটি জলমহাল থেকে প্রকাশ্যে মাছ লুট করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাতে এ ঘটনা ঘটে, যেখানে কয়েক গ্রামের শত শত মানুষ অংশ নেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাত সাড়ে সাতটার পর থেকে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে লাইট জ্বালিয়ে মাছ লুট করা হয়, যা এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

ইজারাদারের বিনিয়োগ ও ক্ষতির বিবরণ

জলমহালটির ইজারাদার গাজীনগর গ্রামের আঙ্গুর মিয়া। তিনি উপজেলা প্রশাসন থেকে এবার ১৬ লাখ টাকায় এক বছরের জন্য জলমহালটি ইজারা নিয়েছেন। ইজারা নেওয়ার পর জলমহালের রক্ষণাবেক্ষণ, পোনা অবমুক্তকরণ এবং অন্যান্য ব্যবস্থাপনায় তিনি আরও প্রায় ২৪ লাখ টাকা খরচ করেছেন। আঙ্গুর মিয়া জানান, নিয়ম অনুযায়ী জলমহালে অন্তত আড়াই ফুট পানি রেখে নির্ধারিত সময়ের পর মাছ আহরণ করার কথা ছিল। তিনি এত দিন মাছ সংরক্ষণ করেছেন এবং সপ্তাহখানেক পর মাছ ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

লুটের ঘটনা ও স্থানীয়দের ভূমিকা

গতকাল সন্ধ্যার পর শান্তিগঞ্জ উপজেলার কাওয়াজুরী, উফতিরপাড় ও লাউগাঙ্গ গ্রামের পাশাপাশি দিরাই উপজেলার নগদিপুর, ছোট নগদিপুর, ধীতপুর, ফুকিডর ও দৌলতপুর গ্রামের শত শত মানুষ জলমহালের চারপাশে ভিড় জমায়। তারা সবাই জলমহালে নেমে মাছ ধরতে শুরু করে এবং লাইট জ্বালিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে মাছ লুট অব্যাহত রাখে। মানুষ বেশি হওয়ায় জলমহালের পাহারাদারেরা ভয়ে বাধা দিতে পারেননি বলে জানা গেছে।

আঙ্গুর মিয়ার অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে কয়েক গ্রামের মানুষ সংঘবদ্ধ হয়ে মাছ লুটে নিয়েছেন, যা তাঁর জন্য ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়েছে। তিনি দাবি করেন, এ ঘটনায় তাঁর বিনিয়োগের সিংহভাগই নষ্ট হয়ে গেছে এবং স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

পুলিশের প্রতিক্রিয়া ও তদন্তের অবস্থা

শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. অলি উল্লাহ জানান, জলমহালের মাছ লুটের ঘটনা সম্পর্কে ইজারাদার বা সংশ্লিষ্ট কেউ তাদেরকে এখনও জানায়নি। তিনি বলেন, অভিযোগ পেলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ঘটনাটি তদন্তের আওতায় আনা হবে। স্থানীয় বাসিন্দারা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন যে, এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে যদি দ্রুত পদক্ষেপ না নেওয়া হয়।

এ ঘটনা সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলায় অপরাধ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। স্থানীয়রা দাবি করছেন, জলমহালের নিরাপত্তা জোরদার করা এবং ইজারাদারদের অধিকার রক্ষায় কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।