দোকানিদের বাধায় কক্সবাজার সৈকতের অবৈধ দোকান উচ্ছেদ স্থগিত
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের বালিয়াড়িতে গড়ে ওঠা অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করতে ব্যর্থ হয়েছে জেলা প্রশাসন। দখলদার ও ব্যবসায়ীদের তীব্র বাধার মুখে আজ শনিবার তৃতীয় দিনের উচ্ছেদ অভিযান স্থগিত করা হয়েছে। তবে প্রশাসন দোকানের মালামাল ও স্থাপনা নিজ উদ্যোগে সরিয়ে নিতে ব্যবসায়ীদের জন্য সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে।
উচ্ছেদ অভিযানে বাধা ও প্রতিবাদ
আজ দুপুরে পাঁচজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে একাধিক খননযন্ত্র ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্ট এলাকায় উচ্ছেদ অভিযানে যান। এ সময় কয়েক শ নারী–পুরুষ ব্যবসায়ী অভিযানের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন এবং দোকানের সামনে অবস্থান নেন। শুরুতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে বালিয়াড়ি থেকে অবৈধ দোকানপাট ও স্থাপনা সরিয়ে নিতে বলা হলেও ব্যবসায়ীরা তা মানেননি।
ব্যবসায়ীদের দাবি, তাঁরা বৈধভাবে বালিয়াড়িতে ব্যবসা করছেন এবং পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে তাঁদের দোকান উচ্ছেদ করা যাবে না। সুগন্ধা পয়েন্টের আচার বিক্রেতা রশিদ আহমদ বলেন, "প্রতিবছর টাকার বিনিময়ে কার্ড সংগ্রহ করে আমরা কয়েকজন ব্যবসা করে আসছি। আসন্ন ঈদ সামনে রেখে দাদন ও ঋণ নিয়ে কয়েক লাখ টাকার মালামাগ দোকানে তুলেছি। এখন দোকান উচ্ছেদ করা হলে আমরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ব।"
প্রশাসনের পদক্ষেপ ও সময়সীমা
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নির্দেশনার পর গত বৃহস্পতিবার থেকে সৈকতে অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। প্রথম দিন সুগন্ধা পয়েন্ট এলাকা থেকে ৩৩টি দোকান উচ্ছেদ করা হয়। দ্বিতীয় দিন শুক্রবার একই এলাকা থেকে আরও ৮০টির বেশি অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে দেওয়া হয়।
আজ বেলা একটার দিকে তৃতীয় দিনের অভিযানে নামলে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রশাসনের মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হয়। এ সময় দোকানগুলোর বিদ্যুৎ–সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। পরে বিকেল চারটার দিকে অভিযান স্থগিত করেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা। তাঁরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে সুগন্ধা পয়েন্টের তথ্য ও অভিযোগ কেন্দ্রে অবস্থান নেন।
পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগামীকাল রোববার সকাল ১০টার মধ্যে বালিয়াড়ির সব দোকানপাট ও স্থাপনা নিজ উদ্যোগে সরিয়ে নিতে ব্যবসায়ীদের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পর্যটন শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনজু বিন আফনান বলেন, "ব্যবসায়ীদের অনুরোধে দোকানের মালামাল ও স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার জন্য আগামীকাল সকাল ১০টা পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে না সরালে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে। গত দুই দিনে সৈকতের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় ১৩০টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে।"
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই উচ্ছেদ অভিযান স্থগিত হওয়ায় স্থানীয় পর্যটন ও ব্যবসায়িক পরিবেশে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। অনেক ব্যবসায়ী আশঙ্কা করছেন যে, যদি দোকান উচ্ছেদ করা হয়, তবে তাঁরা আর্থিকভাবে মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হবেন। অন্যদিকে, প্রশাসন সৈকতের পরিবেশ রক্ষা ও অবৈধ দখলদারিত্ব বন্ধ করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
উল্লেখ্য, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত দেশের একটি প্রধান পর্যটন কেন্দ্র, এবং অবৈধ দোকানপাট এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পরিবেশের জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তাই সরকারি পর্যায় থেকে এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছে, যদিও তা বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
