মে মাসের শেষভাগ থেকে দেশে ঝড়-বৃষ্টির প্রবণতা কমতে শুরু করেছে। জুনের শুরুতেই অধিকাংশ অঞ্চল তাপপ্রবাহের মধ্যে রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চলতি মাসে বিচ্ছিন্নভাবে আরও দুই থেকে তিনটি মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। তবে মাসের প্রথমার্ধেই দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বিস্তার লাভের মাধ্যমে বর্ষার প্রভাব শুরু হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
জুন মাসের জলবায়ু পূর্বাভাস
জুন মাসের জলবায়ু পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে, এ মাসে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাত হতে পারে। দেশে ৫ থেকে ৭ দিন হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বজ্রঝড়ের আশঙ্কা রয়েছে। দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকতে পারে। এ ছাড়া বঙ্গোপসাগরে একটি বা দুটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে, যার মধ্যে একটি মৌসুমি নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
মে মাসের বৃষ্টিপাতের চিত্র
আবহাওয়াবিদদের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সদ্য বিদায়ী মে মাসে দেশে মোটের উপর স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। তবে চট্টগ্রাম, খুলনা ও বরিশাল বিভাগে স্বাভাবিকের চেয়ে কম এবং অন্যান্য বিভাগে তুলনামূলক বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। গত ১৮ মে চুয়াডাঙ্গায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। আর ৩ মে সিলেটে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
সাম্প্রতিক তাপপ্রবাহ ও বৃষ্টির সম্ভাবনা
সোমবার ঢাকাসহ প্রায় ৪০ জেলায় তাপপ্রবাহ বিরাজ করছিল। তবে মঙ্গলবারের পূর্বাভাসে আট বিভাগেই বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হতে পারে। চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণেরও আভাস রয়েছে। অন্যান্য এলাকায় আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে এবং আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকবে। সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
আবহাওয়াবিদের মতামত
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলাম বলেন, বৃষ্টিপাত কম থাকায় তাপমাত্রা বেড়েছে। আপাতত ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। তাই আরও দুই থেকে তিন দিন তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে।



