যশোরের বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে এক দল নারী, পুরুষ ও শিশুকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার (পুশইন) বিএসএফের দফায় দফায় প্রচেষ্টা বিজিবির কঠোর অবস্থানের মুখে ব্যর্থ হয়েছে। গত সোমবার গভীর রাত থেকে বেনাপোলের সাদিপুর সীমান্ত এলাকা দিয়ে এ ধরনের প্রচেষ্টা চালায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। দুই দিন ধরে তারা অপেক্ষায় আছে সীমান্তের শূন্যরেখায়।
বিজিবির দাবি, রাতের আঁধারে বিএসএফ কয়েক জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে বাংলাদেশে প্রবেশ করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালায়। তবে সীমান্তে টহলরত বিজিবি সদস্যরা সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করলে বিএসএফ তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেনি। পরে ঐ ব্যক্তিদের ভারতীয় সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়ার বাংলাদেশ প্রান্তের কাছাকাছি এলাকায় খোলা মাঠের মধ্যে আটকে রাখা হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, ১০ থেকে ১২ জন নারী, পুরুষ ও শিশু ভারতীয় কাঁটাতারের বেড়ার বাইরের অংশে, ভারতের প্রায় ১৫০ গজ অভ্যন্তরে প্রখর রোদে খোলা মাঠের মধ্যে অবস্থান করছে। কড়া রোদের মধ্যে না খেয়ে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছে। সীমান্তবর্তী সাদিপুর ও রঘুনাথপুর এলাকায় উত্সুক মানুষের ভিড় জমে আছে।
সীমান্তবাসী জানায়, প্রচণ্ড গরম, পানির সংকট ও খাদ্যাভাবে তারা কয়েক বার বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করলে বিজিবির বাধার মুখে ফিরে যেতে বাধ্য হয়। এদিকে ঘটনার পরপরই বিজিবি বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং বিষয়টির ব্যাখ্যা চায়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজিবি সদস্যরা সীমান্ত এলাকায় সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাচ্ছেন। তবে সীমান্তে আটকে রাখা ব্যক্তিরা কোন দেশের নাগরিক, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে বিজিবি।
গতকাল মঙ্গলবার বেলা ২টার দিকে বিজিবির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় রিজিয়নের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং বিজিবি সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘সীমান্তে যাতে কোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ না ঘটে, সে বিষয়ে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।’



