সংবিধানে সংস্কার পরিষদের অস্তিত্ব নেই, শপথ নেননি বিএনপি সংসদ সদস্যরা
সংবিধানে সংস্কার পরিষদ নেই, শপথ নেননি বিএনপি এমপিরা

সংবিধানে সংস্কার পরিষদের অস্তিত্ব নেই, শপথ নেননি বিএনপি সংসদ সদস্যরা

বিএনপি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা আজ সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদে শপথ পড়ার আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তার এই ঘোষণার পর থেকেই বিষয়টি রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

ছাত্রদল নেতার বক্তব্য

এবার বিষয়টি নিয়ে নিজের অভিমত জানিয়েছেন ছাত্রদল নেতা শেখ তানভীর বারী হামিম। তিনি একটি ফেসবুক পোস্টে স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘যেহেতু সংসদ সদস্যবৃন্দ কেউই সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হননি এবং বিদ্যমান সংবিধানে সংবিধান সংস্কার পরিষদ বলে কিছু নেই।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বিদ্যমান সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে বিভিন্ন পদের শপথের বিষয়ে বিধান থাকলেও সেখানে সংসদ সদস্যদের শপথের কথা আছে, সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথের কোনো বিষয় নেই।

হামিম জোর দিয়ে বলেন, ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনারেরও এ ধরনের শপথ পড়ানোর এখতিয়ার নেই।’ তার মতে, সংবিধান সংশোধনের পূর্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার সুযোগ নেই। জাতীয় সংসদে সাংবিধানিকভাবে গৃহীত হলে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে।

সালাহউদ্দিন আহমদের অবস্থান

তার আগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ একই সুরে বলেছেন, ‘আমরা কেউ সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হইনি। সংবিধানে এখনো এটাকে ধারণ করা হয়নি।’ তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হলে সেটা সংবিধানে আগে ধারণ করতে হবে। সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য কে, কে শপথ নেওয়াবেন, সেটার বিধান করতে হবে।

আহমদ বলেন, ‘এ ফরমটি সংবিধানে নেই (নীল)। ফরমটি তৃতীয় তফশিলে আছে (সাদা)।’ তিনি দলীয় চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে এ সিদ্ধান্ত জানাচ্ছেন বলে উল্লেখ করেন। এই অবস্থানটি বিএনপির ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও জুলাই সনদ সংস্কারের প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।

এই ঘটনাটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে সংবিধান সংশোধন ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার প্রক্রিয়ার উপর নতুন বিতর্কের সূচনা করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের আগে সাংবিধানিক কাঠামো স্পষ্ট করা অত্যন্ত জরুরি, যা বর্তমান বিতর্কের মূল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।