ফুটবল মাইকিং নিয়ে সংঘর্ষে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় শতাধিক আহত
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় ফুটবল খেলার মাইকিং করাকে কেন্দ্র করে দুই দিন ধরে তুমুল সংঘর্ষ চলছে। এই ঘটনায় পুলিশ, সাংবাদিকসহ কমপক্ষে শতাধিক গ্রামবাসী আহত হয়েছেন। শুক্রবার রাতে টর্চ লাইট জ্বালিয়ে শুরু হওয়া সংঘর্ষের রেশ ধরে শনিবার সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সংঘর্ষ অব্যাহত থাকে।
ঘটনার সূত্রপাত ও বিস্তার
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুই দিন আগে মুনসুরাবাদ গ্রামের রাহাত নামের এক কিশোর ফুটবল খেলার মাইকিং করার সময় পার্শ্ববর্তী খাপুরা, সিংগারডাক ও মাঝিকান্দা গ্রামের যুবকদের হাতে লাঞ্ছিত হন। এই ঘটনার প্রতিশোধ হিসেবে শুক্রবার সন্ধ্যায় আড়াই ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ চলে।
শনিবার সকালে মুনসুরাবাদ গ্রামবাসীর সঙ্গে পার্শ্ববর্তী খাপুরা, সিংগারডাক, মাঝিকান্দা, ছোট হামেরদী ও গুপিনাথপুরসহ মোট ৮টি গ্রামের মানুষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের মুনসুরাবাদ বাসস্ট্যান্ডে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। প্রায় ৫ ঘণ্টাব্যাপী উভয় পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও দোকানপাট ভাঙচুরসহ ব্যাপক লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
পুলিশের ব্যর্থতা ও সেনা মোতায়েন
এসময় থানা পুলিশের উপস্থিতি থাকলেও সংঘর্ষ চরম আকারে হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি পুলিশ। ভাঙ্গা থানার তদন্ত ওসি আলামিন মিয়া জানান, শুক্রবার রাতের ঘটনার জেরে শনিবার সকালে পুনরায় ৪ গ্রামের মানুষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় জেলা সদর থেকে সেনাবাহিনী, ডিবি, অতিরিক্ত ১ প্লাটুন পুলিশ ও ভাঙ্গা থানা পুলিশ মিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। বর্তমানে পুলিশের একাধিক টিম, সেনাবাহিনী ও ডিবির সদস্যরা ঘটনা স্থলে অবস্থান করছেন।
আহত ও ক্ষয়ক্ষতি
এই সংঘর্ষে পুলিশ সদস্য, সাংবাদিক ও গ্রামবাসীসহ শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। সংঘর্ষের সময় ব্যাপক দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে, যা স্থানীয় ব্যবসায়ীদের জন্য বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই ধরনের সংঘর্ষ আগেও কয়েকবার ঘটেছে, কিন্তু এবারের মতো ব্যাপক আকার ধারণ করেনি। তারা প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ কামনা করেছেন যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি না হয়।



