দেশে হাম-রুবেলা সংক্রমণ বৃদ্ধি: জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু হচ্ছে রবিবার
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হাম ও রুবেলা সংক্রমণের হার উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকার জরুরি ভিত্তিতে একটি ব্যাপক টিকাদান কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করে জানায় যে, রবিবার সকাল ৯টায় সারাদেশে একযোগে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে।
সংক্রমণ পরিস্থিতি ও সরকারের পদক্ষেপ
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক সপ্তাহে দেশের একাধিক এলাকায় হাম সংক্রমণের ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে, যার মধ্যে বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে অল্পবয়সী শিশুরা। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে জরুরি টিকাদান কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সাথে আলোচনার পর জাতীয় টিকাদান কারিগরি উপদেষ্টা কমিটি এই জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান অভিযানের সুপারিশ করেছে।
এই অভিযানটি একটি সমন্বিত প্রতিরোধ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পরিচালিত হবে, যার লক্ষ্য সংক্রমণের দ্রুত বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করা এবং ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের সুরক্ষা প্রদান করা। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, পাঁচ বছরের কম বয়সী সকল শিশুকে এই কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে, এমনকি যারা পূর্বে টিকা নিয়েছে তাদেরও পুনরায় টিকা দেওয়া হবে।
কর্মসূচির বাস্তবায়ন পরিকল্পনা
এই জরুরি টিকাদান কর্মসূচি ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হবে। প্রথম ধাপে, ৩০টি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাতে কর্মসূচি শুরু করা হবে। এরপর রোগের পরিস্থিতি ও মাঠ পর্যায়ের প্রস্তুতির ভিত্তিতে ধীরে ধীরে এটি সারাদেশে সম্প্রসারিত হবে। সরকারের লক্ষ্য রয়েছে ২১ মের মধ্যে এই কর্মসূচি সম্পন্ন করা।
রবিবার সকাল ৯টায় সারাদেশে একযোগে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী নওয়াবগঞ্জে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কক্সবাজারে, প্রতিমন্ত্রী পাবনা সদরে, বিএনপি চেয়ারপারসনের একজন উপদেষ্টা ঝালকাঠির নলছিটিতে এবং স্বাস্থ্য সচিব গাজীপুরে এই কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন।
পিতামাতাদের জন্য নির্দেশনা
স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ সকল পিতামাতাকে অনুরোধ জানিয়েছে যেন তারা তাদের পাঁচ বছরের কম বয়সী সকল শিশুকে নির্ধারিত টিকাদান কেন্দ্রে নিয়ে আসেন। তবে, যেসব শিশুর জ্বর আছে বা বর্তমানে অসুস্থ অবস্থায় রয়েছে, তাদের এই সময়ে টিকা দেওয়া হবে না। তাদের সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়ার পর টিকা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও, যেসব শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে বা সংক্রমণের সন্দেহ রয়েছে, তাদের সকলকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল প্রদান করা হবে। এই পদক্ষেপটি শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
সরকারের এই জরুরি উদ্যোগটি শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা দেশব্যাপী সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যাচ্ছে।



