ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের পাশে মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারীর প্রসব করা কন্যাশিশুটিকে বরিশালের একটি ‘ছোটমনি নিবাসে’ পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন মাদারীপুরের আদালত। আজ সোমবার দুপুরে জেলার আমলি আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত খানম এ আদেশ দেন।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
এর আগে গত শুক্রবার সকালে মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার ভুরঘাটা বাসস্ট্যান্ড-সংলগ্ন সেতু এলাকায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের পাশে মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারী সন্তান প্রসব করেন। পরে স্থানীয় লোকজন ও প্রশাসনের সহযোগিতায় ওই নারী ও নবজাতককে কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
আদালতের পর্যবেক্ষণ
আদালতের বরাত দিয়ে কালকিনি উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় কর্মকর্তা মো. রাশেদুল ইসলাম জানান, নবজাতকের বর্তমান অবস্থা গভীরভাবে পর্যালোচনা করেন আদালত। আদালত পর্যালোচনায় দেখেছেন, নবজাতকটির মা একজন ভারসাম্যহীন নারী (৩৫)। নবজাতককে সঠিকভাবে লালনপালন ও দেখাশোনা করার মতো মানসিক অবস্থা তাঁর নেই। শিশুটি যেকোনো সময় বড় ধরনের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কায় আছে। এমতাবস্থায় আদালত শিশুটির সার্বিক দিক বিবেচনা করে ভবিষ্যৎ মঙ্গলের কথা চিন্তা করে সঠিকভাবে লালনপালন ও দেখভালের জন্য বরিশালের আগৈলঝাড়ায় সমাজসেবা অধিদপ্তর দ্বারা পরিচালিত ছোটমনি নিবাসে পাঠানোর সিদ্ধান্ত দেন। একই সঙ্গে ভারসাম্যহীন ওই নারীকে তাঁর মায়ের জিম্মায় দিয়েছেন আদালত।
সমাজসেবা কর্মকর্তার বক্তব্য
মো. রাশেদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘কারাগার থেকে ওই নবজাতককে ছোটমনি নিবাসে পাঠানো হয়। ইতিমধ্যে অনেকেই শিশুটিকে দত্তক নিতে মৌখিকভাবে আমাদের কাছে জানিয়েছেন। এখন শিশুকে কেউ দত্তক নিতে চাইলে ছোটমনি নিবাসে আবেদন করে পরবর্তী কার্যক্রম করতে হবে।’
ঘটনার বিস্তারিত
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভারসাম্যহীন ওই নারী দীর্ঘদিন ধরেই কালকিনি পৌর শহরসহ বিভিন্ন এলাকার বাজার ও আশপাশে ঘুরে বেড়াতেন। কিছু জিজ্ঞাসা করলে ভিন্ন ভিন্ন নাম ও কথা বলতেন। তবে তাঁর নাম জোহরা বেগম ওরফে জহুরা। তিনি কালকিনি উপজেলার রায়পুর এলাকার বাসিন্দা। গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে তাঁর প্রসব যন্ত্রণা ওঠে। পরে শুক্রবার সকাল ছয়টার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ভুরঘাটা বাসস্ট্যান্ড-সংলগ্ন সেতুর গোড়ায় আশ্রয় নেন। পরে তিনি সেখানে কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। সকাল সাতটার দিকে বিষয়টি স্থানীয় লোকজন দেখতে পেয়ে কালকিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানান। পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওই নারী ও তাঁর নবজাতককে কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় ২৯ মে শুক্রবার প্রথম আলোর অনলাইনে ‘মহাসড়কের পাশে কন্যাসন্তানের জন্ম দিলেন মানসিক ভারসাম্যহীন নারী’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
কালকিনির ইউএনও সাইফ-উল-আরেফীন প্রথম আলোকে বলেন, ‘শিশুটির ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে প্রথমে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছি। পরে আদালতের সিদ্ধান্তে শিশুটির নতুন ঠিকানা ছোটমনি নিবাস। আশা করছি, যত্নে ও ভালোবাসায় শিশুটি বড় হয়ে উঠবে।’



