ইন্টারিম সরকারের 'মহাসাফল্য': প্রধান উপদেষ্টা ইউনূসের দাবি, ইতিহাসের সেরা নির্বাচন
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস দেশের ইতিহাসে সেরা নির্বাচনকে 'মহাসাফল্য' হিসেবে অভিহিত করেছেন। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) উপদেষ্টা পরিষদের ৬১তম এবং সর্বশেষ বৈঠকে তিনি এই মন্তব্য করেন। রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে তিনি নির্বাচন কমিশন, সেনাবাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান।
নির্বাচনের মাধ্যমে অধিকার ও আত্মমর্যাদা ফিরে পেয়েছে জনগণ ও পুলিশ
প্রধান উপদেষ্টা ইউনূসের বক্তব্য অনুযায়ী, এই নির্বাচন স্বস্তিদায়ক, অভূতপূর্ব এবং অন্তর্বর্তী সরকারের একটি বড় অর্জন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, "এ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের মানুষ তাদের অধিকার এবং পুলিশের আত্মমর্যাদা ফিরে পেয়েছে।" উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
নতুন সরকারের শপথ ও বিদায়ী উপদেষ্টাদের আনুষ্ঠানিক প্রস্থান
প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠান হবে। এই অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা পতাকাবাহী গাড়িতে করে অংশগ্রহণ করবেন, কিন্তু শপথ শেষে পতাকা ছাড়া গাড়িতে করে বাসায় ফিরবেন। এছাড়াও, অনুষ্ঠানে কাতার ও সার্কভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
শফিকুল আলমের মতে, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব পালনে ৯০ শতাংশ সফল হয়েছে। তার ব্যাখ্যা হলো, "অর্থনৈতিকভাবে একটি ভঙ্গুর দেশে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে এনেছে এ সরকার।" তিনি আরও উল্লেখ করেন, তাদের করা প্রতিটি অধ্যাদেশ আইনে পরিণত হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
ইন্টারিম সরকারের গঠন ও দায়িত্বের সমাপ্তি
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্রজনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ওই বছরের ৮ আগস্ট অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। দেড় বছর পর বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনের পর নতুন সরকারের শপথের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হবে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বকাল। এরপরই উপদেষ্টারা বিদায় নেবেন।
নির্বাচনের বিশেষ দিক ও সংখ্যালঘু নিরাপত্তা
শফিকুল আলম বলেন, এবারের নির্বাচন এমন একটি মাইলফলক স্থাপন করেছে, যার মাধ্যমে গুম-খুনের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত দল এবং জুলাই বিপ্লবের নেতৃত্বদানকারীরা বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্ব করবেন। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, "এবারই প্রথম এমন একটি নির্বাচন হয়েছে, যে নির্বাচনের পর সংখ্যালঘুদের ওপর কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি।" শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দেওয়ায় উপদেষ্টা পরিষদকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। নির্বাচন কমিশনের কর্মকাণ্ডেও উপদেষ্টা পরিষদ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।
এ সময় হাতিয়ায় ধর্ষণের ঘটনা নিয়ে শফিকুল আলম বলেন, সরকার ধর্ষণের ঘটনায় একটি কমিটি গঠন করবে, যারা এর সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করবে। তিনি আরও জানান, উপদেষ্টা পরিষদ মনে করে, এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে পুলিশবাহিনী তার আত্মমর্যাদা ফিরে পেয়েছে।
সরকারের সাফল্য মূল্যায়ন ও জনগণের প্রত্যাশা
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, "একেকজন তো একেক রকম মনে করে। আমি ৩০ বছর ধরে সাংবাদিকতা করেছি। এরপর ১৮ মাস এই সরকারকে নিবিড়ভাবে দেখেছি। আমরা যে ধরনের আমলাতন্ত্র এবং ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছি, তাতে আমার ব্যক্তিগত মত হলো, সরকার ৯০ শতাংশ সফল।" তিনি আরও যোগ করেন, দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণে সরকারের এই সাফল্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।
এই ব্রিফিংয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে প্রেস সচিব সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং অর্জনগুলো বিশদভাবে ব্যাখ্যা করেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দেশ একটি স্থিতিশীল ও গণতান্ত্রিক যাত্রা শুরু করবে।
