ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে সাংবাদিক মারধরের অভিযোগ, যুবদল নেতার বিরুদ্ধে থানায় মামলা
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাংবাদিক মারধর, যুবদল নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাংবাদিকের উপর হামলা, যুবদল নেতার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুরে এক সাংবাদিককে মারধরের ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। বাংলা টিভির সাংবাদিক মো. ফয়সাল আহমেদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ উঠেছে বাঞ্ছারামপুর সদর ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান লিটনের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক ইতিমধ্যে বাঞ্ছারামপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

ঘটনার বিবরণ

মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে জগন্নাথপুর আধুনিক অডিটোরিয়ামে সরকার ঘোষিত ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানের তথ্য সংগ্রহ শেষে এই ঘটনা ঘটে। সাংবাদিক ফয়সাল আহমেদ বাড়ি ফেরার পথে যুবদল নেতা আতিকুর রহমান লিটনের দ্বারা মারধরের শিকার হন বলে অভিযোগ।

লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, আতিকুর রহমান লিটন তাকে মারধর করার পাশাপাশি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে বাধা দিলে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারা হয় এবং ভয়ভীতি দেখানো হয়। একপর্যায়ে ভবিষ্যতে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী সাংবাদিকের বক্তব্য

সাংবাদিক ফয়সাল আহমেদ বলেন, ‘অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রভাবশালী ও উচ্ছৃঙ্খল প্রকৃতির হওয়ায় নিজের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত আছি। এ ঘটনায় বাঞ্ছারামপুর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে এই হামলা তার উপর চাপ সৃষ্টি করেছে।

অভিযুক্তের প্রতিক্রিয়া

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বাঞ্ছারামপুর সদর ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান লিটন বলেন, ‘সাংবাদিক ফয়সাল আওয়ামী লীগের দোসর। সে আমার ফ্যামিলির বিষয় নিয়ে রিপোর্টিং করার নামে বিরক্ত করেছে। নতুন সাংবাদিক হয়েছে। এসব বিষয়ে তাকে সতর্ক করা হয়েছে। তখন হাতাহাতি হয়।’ তার বক্তব্যে তিনি ঘটনাটিকে একটি সাধারণ বিবাদ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

পুলিশের অবস্থান

এ ব্যাপারে বাঞ্ছারামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইয়াসিন বলেন, ‘সাংবাদিকের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। এ ব্যাপারে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, প্রাথমিক তদন্তের পর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও পেশাগত স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।