টানা বৃষ্টিতে সিলেটে স্থবিরতা, পাঁচ জেলায় বন্যার শঙ্কা
টানা বৃষ্টিতে সিলেটে স্থবিরতা, পাঁচ জেলায় বন্যার শঙ্কা

সিলেটে আজ বুধবারও সকাল থেকে টানা বৃষ্টি হচ্ছে। এই টানা বৃষ্টিতে শহরে নেমে এসেছে স্থবিরতা। ছাতা মাথায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে কয়েকজন পথচারীকে। হুমায়ুন রশীদ চত্বরে এই দৃশ্য দেখা যায়।

পাঁচ জেলায় বন্যার শঙ্কা

দেশের বিভিন্ন স্থানে গতকাল মঙ্গলবার থেকে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি শুরু হয়েছে। এই বৃষ্টির কারণে দেশের পাঁচ জেলায় বন্যা হতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। পানি উন্নয়ন বোর্ডের এই সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ জেলার মধ্যে ইতিমধ্যে মৌলভীবাজার ও নেত্রকোনায় বন্যা শুরু হয়ে গেছে। বাকি তিন জেলায় বন্যা হতে পারে, কারণ এসব জেলার নদ-নদীর পানি বাড়ছে। বর্তমান বৃষ্টি আরও অন্তত পাঁচ দিন থাকতে পারে বলে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ প্রতীম বড়ুয়া আজ বুধবার সকালে জানান, মৌলভীবাজার, নেত্রকোনা, সিলেট, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। ইতিমধ্যে মৌলভীবাজার ও নেত্রকোনা জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা শুরু হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির কারণেই এই অবস্থা।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস

এর আগে আবহাওয়া অধিদপ্তর গতকাল মঙ্গলবার পরবর্তী ৯৬ ঘণ্টায় দেশের আট বিভাগের বিভিন্ন স্থানে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেয়। গতকাল রাত থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারী বৃষ্টি শুরু হয়েছে। রাজধানীতেও আজ সকাল থেকে বৃষ্টি চলছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে কিশোরগঞ্জের নিকলীতে, ১৬১ মিলিমিটার। এ ছাড়া ভোলায় বৃষ্টি হয়েছে ১৫১ মিলিমিটার, ফেনীতে ১৪৮ মিলিমিটার।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আবহাওয়াবিদের মতামত

আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক আজ জানান, এই বৃষ্টি যে কোনো এলাকায় একটানা হবে তা নয়। থেমে থেমে বিভিন্ন এলাকায় হতে পারে। বৃষ্টি চলতে পারে আগামী ৪ মে পর্যন্ত।

চার নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে

দেশের চার নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। এই নদীগুলো হলো ভুগাই কংস, মনু, সোমেশ্বরী ও মগরা। এর মধ্যে মনু বাদ দিয়ে বাকি তিন নদীই নেত্রকোনা জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত।

এর বাইরে সুরমা, কুশিয়ারা নদীর পানিও এক থেকে দেড় মিটারের বেশি বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ প্রতীম বড়ুয়া। তিনি বলেন, এই নদীগুলো আকারে ছোট। তাই ভারী বৃষ্টি হলে এভাবে পানি বেড়ে যায়। বৃষ্টি কমে গেলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলে জানিয়েছেন এই প্রকৌশলী।