২০১৮ বিশ্বকাপে রাশিয়ায় ইংল্যান্ড ও ক্রোয়েশিয়ার সেমিফাইনালের আগে ইংলিশ সংবাদমাধ্যমে বারবার বলা হচ্ছিল যে ক্রোয়েশিয়ার বয়স্ক দলটি আগের দুই ম্যাচে অতিরিক্ত সময় খেলেছে, ফলে তারা ক্লান্ত থাকবে। অনেকেই মনে করেছিলেন, মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে ক্লান্তি বড় পার্থক্য গড়ে দেবে। কিন্তু লুকা মদ্রিচ এই আলোচনা পছন্দ করেননি। তিনি ও ক্রোয়েশিয়ার অভিজ্ঞ খেলোয়াড়রা এসব মন্তব্যকে অনুপ্রেরণা হিসেবে নেন। শেষ পর্যন্ত ক্রোয়েশিয়া অতিরিক্ত সময়ে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে।
ম্যাচ শেষে মদ্রিচ বলেন, “আমরা প্রমাণ করেছি যে ইংলিশ সাংবাদিক ও টিভি বিশ্লেষকরা যা বলছিলেন, বাস্তবতা ছিল তার বিপরীত। তারা আমাদের অবমূল্যায়ন করেছিল, আর সেটাই ছিল তাদের বড় ভুল। প্রতিপক্ষকে আরও সম্মান করা উচিত ছিল।”
ইউরো ২০২৪-এর হতাশা ও ক্লাব ক্যারিয়ার
ধারণা করা হয়েছিল, ২০২৪ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে ক্রোয়েশিয়ার হতাশাজনক বিদায়ের পর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নেবেন মদ্রিচ। ইতালির বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তিনি গোল করেছিলেন, কিন্তু শেষ মুহূর্তে ইতালির সমতাসূচক গোল ক্রোয়েশিয়াকে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় করে দেয়। অনেকেই ভেবেছিলেন, এটাই তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়। তবে মদ্রিচ জানিয়েছিলেন, তিনি খেলা চালিয়ে যেতে চান। পরে তিনি শৈশবের প্রিয় ক্লাব এসি মিলানে যোগ দেন।
৪০ বছর বয়সে তিনি কতটা কার্যকর হবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। কিন্তু মদ্রিচ সমালোচকদের ভুল প্রমাণ করেন। তার পারফরম্যান্স, নেতৃত্ব ও পেশাদার মানসিকতা সতীর্থ ও সমর্থকদের মুগ্ধ করে। ইতালিয়ান মিডিয়া তার ফিটনেস ও ধারাবাহিকতায় বিস্ময় প্রকাশ করে। সাবেক ব্রাজিলিয়ান তারকা কাকা তাকে “প্রকৃতির এক বিস্ময়” বলে উল্লেখ করেন। কাকার মতে, মদ্রিচের জয়ের ক্ষুধা আগের মতোই প্রবল এবং তিনি তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য অনুকরণীয় উদাহরণ।
চোট ও ভবিষ্যৎ
মিলানের কোচ তার ওপর ব্যাপক আস্থা রেখেছিলেন। তবে মৌসুমের শেষ দিকে চোট পেয়ে মাঠের বাইরে চলে গেলে দল তার অভাব অনুভব করে এবং গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ম্যাচে হেরে যায়। বর্তমানে মদ্রিচের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। তিনি মিলানে থাকবেন নাকি অবসর নিয়ে অন্য ভূমিকায় যোগ দেবেন, তা পরিষ্কার নয়। তবে অনেকের ধারণা, এটাই ক্রোয়েশিয়ার হয়ে তার শেষ বড় টুর্নামেন্ট হতে পারে।
চোটের কারণে তাকে এখন সুরক্ষামূলক মুখোশ পরে খেলতে হচ্ছে। তবুও মদ্রিচের দীর্ঘ ক্যারিয়ার দেখিয়েছে যে তাকে অবমূল্যায়ন করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়। তিনি নিজেই বলেছেন, “মানুষ কী বলছে, তা নিয়ে আমি কখনোই খুব একটা ভাবিনি। বরং এসব কথাই আমাকে আরও বেশি অনুপ্রাণিত করেছে।” তাই ৪০ বছর বয়সী মুখোশ পরা ‘বুড়ো’ লুকা মদ্রিচকে হালকাভাবে নেওয়ার সাহস কম মানুষই করবে—বিশেষ করে ইংল্যান্ড, যারা অতীতে তার সামর্থ্যের মূল্য বুঝে গেছে।



