গরমের সময়ে মাথাব্যথা অনেকের জন্যই নিত্যদিনের সমস্যায় পরিণত হয়। আবহাওয়ার অস্থিরতা—কখনো তীব্র রোদ, আবার কখনো প্রবল বৃষ্টি—এ সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে তোলে। কারও রোদে বেরোলেই মাথাব্যথা শুরু হয়, আবার কারও ক্ষেত্রে বৃষ্টিতে ভেজার পর একই উপসর্গ দেখা দেয়। ব্যথা কখনো মাথার এক পাশে, কখনো মাঝখানে, আবার কখনো একদিক থেকে অন্যদিকে ছড়িয়ে পড়ে। তবে অনেকেই বুঝতে পারেন না, এ ব্যথার কারণ সাইনাস নাকি মাইগ্রেন।
সাইনাস ও মাইগ্রেনের মধ্যে পার্থক্য
গরমকালে সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় সাইনাসের সমস্যা তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। অন্যদিকে প্রচণ্ড গরম ও রোদের প্রভাব মাইগ্রেনের আক্রমণও বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই মাথাব্যথার প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করা জরুরি।
সাইনাসের উপসর্গ
সাইনাসের ক্ষেত্রে মাথাব্যথার পাশাপাশি নাক দিয়ে পানি পড়া, নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া, নাকে জ্বালাপোড়া, এমনকি কখনো নাক থেকে রক্ত পড়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এছাড়া দাঁত, চোখ ও চোয়ালের হাড়েও ব্যথা অনুভূত হতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে অ্যালার্জিজনিত সমস্যা, ত্বকে চুলকানি বা সংক্রমণও দেখা দেয়। কিছু রোগীর জ্বরও হতে পারে।
মাইগ্রেনের উপসর্গ
মাইগ্রেনের ব্যথার ধরন ভিন্ন। সাধারণত মাথার এক পাশেই তীব্র ও ধকধকে ব্যথা অনুভূত হয়। এই ব্যথা ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। শুধু মাথা নয়, ঘাড় ও মাথার পেছনের অংশেও অস্বস্তি বা যন্ত্রণা ছড়িয়ে পড়ে। এর সঙ্গে বমি বমি ভাব থাকতে পারে এবং আলো সহ্য করতে কষ্ট হয়। অনেক সময় চোখ খুলে রাখাও কঠিন হয়ে পড়ে। কারও ক্ষেত্রে চা-কফি, আবার কারও ক্ষেত্রে ধূমপান বা মদ্যপান মাইগ্রেনের ব্যথা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
চিকিৎসকের পরামর্শ
চিকিৎসকদের মতে, গরমের সময় মাথাব্যথার পেছনে ডিহাইড্রেশনও একটি বড় কারণ হতে পারে। তবে সাইনাস বা মাইগ্রেনে ভোগা ব্যক্তিদের বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। উপসর্গ বুঝে সঠিক চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। সাইনাসের জন্য অ্যান্টিহিস্টামিন ও নাকের স্প্রে কার্যকর হতে পারে, অন্যদিকে মাইগ্রেনের জন্য নির্দিষ্ট ওষুধ ও বিশ্রামের প্রয়োজন।



