মাদারীপুরে হাতবোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণ, চার কারিগর গুরুতর আহত
মাদারীপুর জেলার সদর উপজেলার একটি নির্জন স্থানে হাতবোমা তৈরির সময় বিকট বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে চার ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন, যাঁদের মধ্যে তিনজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। গতকাল রোববার বিকেলে সদর উপজেলার মস্তফাপুর ইউনিয়নের বড়মেহের লটপাড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহত ব্যক্তিদের স্বজনদের বরাতে জানা গেছে, তাঁরা হাতবোমা বানানোর কারিগর হিসেবে কাজ করছিলেন এবং বিস্ফোরণের সময় সেখানেই উপস্থিত ছিলেন।
আহতদের পরিচয় ও চিকিৎসা
বিস্ফোরণে আহত চারজনের মধ্যে তিনজনের নাম নিশ্চিত করা হয়েছে। তাঁরা হলেন:
- সদর উপজেলার পেয়ারপুর ইউনিয়নের পূর্ব গাছবাড়িয়া এলাকার চাহিদুল শরীফ (৩০)
- একই এলাকার সালাউদ্দিন মল্লিক (২৫)
- রাজন হাওলাদার (২৭)
আহতদের প্রথমে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় আজ সোমবার সকালে তাঁদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়েছে। আহত চাহিদুল শরীফের ছোট ভাই রেদোয়ান শরীফ জানান, তাঁর ভাইকে বোমা বানানোর কাজে বাসা থেকে ঢেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং বিস্ফোরণের পর তিনি মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।
বিস্ফোরণের পেছনের কারণ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মস্তফাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হাবিব হাওলাদার ও ইদ্রিস হাওলাদারের সঙ্গে শামচু সরদারের দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এই বিরোধের জেরে দুই পক্ষের লোকজন পূর্বে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ও হাতবোমা ব্যবহার করে সংঘর্ষে জড়িয়েছে। এবার ইদ্রিস হাওলাদারের পক্ষের লোকজন বড়মেহের লটপাড় এলাকার নির্জন স্থানে হাতবোমা তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তখনই বিস্ফোরণ ঘটে।
ইদ্রিস হাওলাদার এ ঘটনা অস্বীকার করে বলেন, তাঁর এলাকায় কোনো বিস্ফোরণ ঘটেনি এবং আহতরা তাঁর লোক নন। তিনি অভিযোগ করেন যে একটি কুচক্রী মহল তাঁর নামে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে।
পুলিশের তদন্ত ও পদক্ষেপ
মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ জানান, বিস্ফোরণের খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে যায়, কিন্তু কোনো আলামত পায়নি। আহত ব্যক্তিরা পুলিশের হাতে আটকের ভয়ে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি হননি এবং সরাসরি ফরিদপুর বা ঢাকায় চিকিৎসা নেওয়ার কথা শোনা গেছে। পুলিশের তদন্ত চলছে এবং বোমা বানানোর কাজে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এ ঘটনা স্থানীয় সম্প্রদায়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রশ্ন তুলেছে। পুলিশ ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি ও ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হচ্ছে।



