পুলিশ সেজে অটোরিকশা ছিনতাই: কুমিল্লার দাউদকান্দিতে চালক মো. জামালের করুণ কাহিনী
পুলিশ সেজে অটোরিকশা ছিনতাই, চালক মো. জামাল কান্নায় ভেঙে পড়েন

পুলিশ সেজে অটোরিকশা ছিনতাই: কুমিল্লার দাউদকান্দিতে চালক মো. জামালের করুণ কাহিনী

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলায় এক মর্মান্তিক ঘটনায় পুলিশের পোশাক পরা দুজন ব্যক্তি অটোরিকশা চালক মো. জামালকে অজ্ঞান করে তার গাড়ি ছিনতাই করেছে। গতকাল রোববার সকাল ৯টার দিকে হাসানপুর-বৌবাজার সড়কের হাসানপুর গ্রামের কাছে এ ঘটনা ঘটে। চালক মো. জামাল অটোরিকশা হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং রাতে দাউদকান্দি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দেন।

ছিনতাইয়ের বিস্তারিত বিবরণ

মো. জামাল দাউদকান্দি উপজেলার বাড়াগাঁও গ্রামের বাসিন্দা। তিনি গতকাল সকালে অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মাইজপাড়া এলাকায় পৌঁছান। সেখানে পুলিশের পোশাক পরা দুজন ব্যক্তি তার রিকশায় ওঠেন এবং ওয়াকিটকি হাতে যানজট নিরসনে কাজ করতে থাকেন। হাসানপুর এলাকায় পৌঁছে তারা মহাসড়ক ছেড়ে বৌবাজারের দিকে যেতে বলেন। কিছুদূর যাওয়ার পর হাসানপুর গ্রামের কাছে পৌঁছালে তারা চালককে ১০০ টাকা ভাড়া দেন। টাকা হাতে নেওয়ার পরই মো. জামাল জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। জ্ঞান ফিরলে তিনি দেখেন, তার অটোরিকশাটি ছিনতাই হয়ে গেছে।

চালকের আর্থিক সংকট ও পুলিশের তদন্ত

মো. জামাল কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, তিনি মাত্র এক মাস আগে কিস্তিতে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকায় রিকশাটি কিনেছেন। প্রতি মাসে তাকে ১৫ হাজার টাকা কিস্তি দিতে হবে। অটোরিকশাটি হারিয়ে তিনি এখন দিশাহারা হয়ে পড়েছেন। দাউদকান্দি মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এহসানুল হক বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর থেকেই অটোরিকশাটি খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। তবে যে সড়কে ছিনতাই হয়েছে, সেখানে সিসিটিভি ক্যামেরা না থাকায় ছিনতাইকারীদের শনাক্ত করতে কষ্ট হচ্ছে। বিষয়টি দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল বাহার মজুমদারকেও জানানো হয়েছে।

স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া ও নিরাপত্তা উদ্বেগ

এই ঘটনায় স্থানীয়রা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, দিনদুপুরে পুলিশ সেজে এমন ছিনতাই অপরাধ উদ্বেগজনক। এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানো এবং সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন তারা। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তদন্ত জোরদার করা হয়েছে এবং আশপাশের এলাকায় অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। তবে এখনো পর্যন্ত অটোরিকশা বা ছিনতাইকারীদের সন্ধান মেলেনি।

এই ঘটনা সামাজিক মাধ্যমেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যেখানে অনেকেই পুলিশের পোশাক ব্যবহার করে অপরাধের নিন্দা জানাচ্ছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন ঘটনা প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানো এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি জোরদার করা জরুরি। চালক মো. জামালের মতো অসহায় মানুষদের সহায়তা দিতে স্থানীয় প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করছেন স্থানীয়রা।