মান্ডায় হাফেজ হত্যার দেড় মাস পরও গ্রেফতার শূন্যতা, পরিবার নিরাপত্তাহীনতায়
রাজধানীর মান্ডা এলাকায় হাফেজ সাইফুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের দেড় মাস পার হলেও এখনো কোনও আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ—এমন অভিযোগ করেছে নিহতের পরিবার। উল্টো মামলার আসামিদের হুমকিতে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও দাবি করেছেন। দ্রুত আসামিদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের বক্তব্য
রবিবার (১২ এপ্রিল) দুপুরে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন নিহতের বোন রাফিজা আক্তার। এ সময় নিহতের স্ত্রী, মা ও পরিবারের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। লিখিত বক্তব্যে রাফিজা আক্তার জানান, তার ছোট ভাই সাইফুল ইসলাম (৩২) পবিত্র কোরআনের একজন হাফেজ ছিলেন।
সচেতন নাগরিক হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের সহযোগিতায় মাদকবিরোধী কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন। এর জেরেই তার জীবনে এই নির্মম পরিণতি নেমে আসে। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্বশত্রুতার জেরে স্থানীয় সন্ত্রাসীরা সাইফুল ইসলামকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে নির্যাতন ও হামলা চালায়।
হত্যাকাণ্ডের পরিণতি ও পরিবারের সংকট
গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকার নয়দিন পর তার মৃত্যু হয়। নিহত সাইফুল ইসলাম পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। তিনি স্ত্রী কোহিনুর আক্তার, আট বছর বয়সী ছেলে মিনহাজুল ইসলাম এবং মা মনোয়ার বেগমকে রেখে গেছেন। পরিবারের দাবি, তারা বর্তমানে চরম মানবিক ও আর্থিক সংকটে রয়েছেন।
অসুস্থ মা চিকিৎসার অভাবে শয্যাশায়ী অবস্থায় আছেন। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হলেও এখনো কোনও আসামিকে গ্রেফতার করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন পরিবারের সদস্যরা। তাদের দাবি, আসামিরা প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছে এবং বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে।
দাবি ও প্রত্যাশা
সংবাদ সম্মেলনে সাইফুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়। পরিবারের সদস্যরা জোর দিয়েছেন যে, এই মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাদের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা জরুরি।
এই ঘটনা সমাজে আইনের শাসন ও নাগরিক নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, যা দ্রুত সমাধানের দাবি রাখে। পরিবারের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, তারা সরকারি সহায়তা ও সুরক্ষার আশায় রয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এমন ট্র্যাজেডি পুনরাবৃত্তি না হয়।



