কুষ্টিয়ায় পীরের আস্তানা ভাঙচুর ও আগুন: ভক্তের চোখে হামলার মর্মান্তিক দৃশ্য
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগরে পীর আবদুর রহমানের আস্তানায় এক নৃশংস হামলা চালানো হয়েছে। গতকাল রোববার দুপুরের দিকে প্রায় ৮০ থেকে ৯০ জনের একটি দল রড ও লাঠি নিয়ে মিছিল করে দরবারে প্রবেশ করে, ভাঙচুর চালায় এবং পীরকে পিটিয়ে হত্যা করে। ঘটনাস্থলে আগুন দেওয়া হয়, যা পরে ফায়ার সার্ভিস নেভায়।
ভক্ত জামিরনের বর্ণনায় হামলার বিবরণ
হামলায় আহত ভক্ত জামিরন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, "দরবারের গেট ভাঙচুরের পর তারা স্লোগান দিতে দিতে ভিতরে ঢুকে। বাবার ঘরের দরজা লাথি দিয়ে ভেঙে তাকে গলা ধরে টেনে বের করে। রড দিয়ে এলোপাতাড়ি মাথায়, মুখে ও নাকে মারতে থাকে। তিনি হাতজোড় করে কথা বলার সুযোগ চাইলেও কেউ শোনেনি।" জামিরন আরও উল্লেখ করেন, হামলাকারীরা ১৫ থেকে ২৫ বছর বয়সী যুবক, যারা প্রস্তুতি নিয়ে এসেছিল বলে তিনি মনে করেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে হামলার প্রেক্ষাপট
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েক বাসিন্দা জানান, পীর আবদুর রহমান ওরফে শামীম পবিত্র কোরআন সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন—গত শুক্রবার থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ৩০ সেকেন্ডের ভিডিও এ ক্ষোভের কারণ। এর প্রতিক্রিয়ায় গতকাল সকালে আবেদের ঘাট এলাকায় শতাধিক মানুষ জড়ো হয় এবং দুপুরের পর দরবারে হামলা চালায়।
হামলার সময়কার দৃশ্য ও আহতদের অবস্থা
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ১৮ মিনিটের একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, গ্রামের পাকা সড়কে শতাধিক মানুষ স্লোগান দিয়ে দরবারের দিকে যাচ্ছে। তারা এক তলা দুটি পাকা ভবন ও একটি টিনশেড ঘরে ঢুকে ভাঙচুর চালায় এবং আগুন ধরিয়ে দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, হামলার সময় দরবারে থাকা পাঁচ থেকে সাতজন আহত হন, অন্যরা পালিয়ে যান। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে আগুন নেভান।
এই ঘটনায় পুলিশ উপস্থিত ছিল বলে জানা গেছে, তবে হামলাকারীরা পীরকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করে। ভক্ত জামিরন দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন, যেখানে তাঁর ডান হাতের আঙুলে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। স্থানীয় সম্প্রদায় ও কর্তৃপক্ষের তদন্ত চলমান, এবং সামাজিক মাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।



