গাজীপুরে বাবা-মায়ের অমতে বিয়ে, দুই বছর পর স্বামীর হাতে খুন ১৬ বছরের ঝর্ণা
গাজীপুরের শ্রীপুরে এক মর্মান্তিক ঘটনায় বাবা-মায়ের অমতে কিশোর বয়সে প্রেমিককে বিয়ে করার দুই বছর পর স্বামীর হাতে জীবন দিতে হলো ঝর্ণা আক্তারকে (১৬)। ঘটনার পর থেকে স্বামী অপু (২০) পলাতক রয়েছেন। শনিবার (১১ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে শ্রীপুর পৌরসভার বেড়াইদেরচালা (জংলাপাড়া) এলাকার মাসুদ মিয়ার ভাড়া বাড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। শ্রীপুর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাছির আহমদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ঝর্ণার পারিবারিক পটভূমি ও বিয়ের ইতিহাস
ঝর্ণা আক্তার শ্রীপুর পৌরসভার বেড়াইদেরচালা এলাকার হামিদুল ইসলামের মেয়ে। তার স্বামী অপু শ্রীপুর পৌরসভার আসপাডা এলাকার হযরত আলীর পালিত ছেলে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ তার বাবা হযরত আলীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে। অপু পেশায় মাওনা-জয়দেবপুর সড়কে চলাচলকারী তাকওয়া (মিনিবাস) পরিবহনের চালক ছিলেন।
ঝর্ণার বাবা হামিদুল ইসলাম জানান, দুই বছর আগে পারিবারের সিদ্ধান্তের অমতে ভালোবেসে অপুকে বিয়ে করেছিল ঝর্ণা। এরপর পর থেকে মেয়ের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ ছিল না। বিয়ের পর ঝর্ণা স্বামী অপুকে নিয়ে বাড়ির পাশেই বেড়াইদেরচালা এলাকার মাসুদ মিয়ার বাড়িতে একটি ঘর ভাড়া নিয়ে বসবাস করতে থাকে।
মৃত্যুর ঘটনা ও পুলিশের তদন্ত
বাড়ির মালিক মাসুদ মিয়ার স্ত্রী লাভলী আক্তার জানান, শনিবার সন্ধ্যায় অপু প্রতিবেশী তানিয়াকে ফোন করে ঝর্ণার মৃত্যুর বিষয়টি জানায় এবং লাশ উদ্ধারের অনুরোধ করে। পরে তানিয়া তাৎক্ষণিক বাড়ির মালিককে জানালে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। রাত ১১টার দিকে পুলিশ তালাবদ্ধ ঘর থেকে ঝর্ণার মরদেহ উদ্ধার করে।
ওসি মোহাম্মদ নাছির আহমদ জানান, সুরতহাল রিপোর্টে মরদেহে কোনও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে শ্বাসরোধে বা বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করে মরদেহ ঘরে রেখে বাহির থেকে তালা দিয়ে চলে গেছে। ওই নারীর স্বামীকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো প্রক্রিয়া চলছে।
এই ঘটনা গাজীপুরে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ঝর্ণার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অপুকে খুঁজে বের করার জন্য ব্যাপক তদন্ত চালানো হচ্ছে। এছাড়া, ঝর্ণার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়ার চেষ্টা করছে কর্তৃপক্ষ।



