শাহবাগে 'আজাদী আন্দোলন' নামে দলীয় হামলা: নারী হয়রানি ও সমকামী-বিরোধী সহিংসতা
রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় শুক্রবার সন্ধ্যায় 'আজাদী আন্দোলন' নামে পরিচিত একটি দল কর্তৃক কয়েকজন ব্যক্তিকে মারধর ও নারীদের যৌন হয়রানির ঘটনা ঘটেছে। এই হামলাটি ঘটেছে সন্ধ্যা প্রায় ৮টার দিকে জাতীয় জাদুঘরের গেটের নিকটে, যেখানে আক্রান্তরা বলছেন যে তারা কোনো প্ররোচনা ছাড়াই আক্রমণের শিকার হয়েছেন।
হামলার বিবরণ ও আক্রান্তদের বক্তব্য
আক্রান্তদের মধ্যে একজন কাজী তাহসিন আগাজ মিডিয়াকে জানান, প্রায় ২০ জনের একটি দল শাহবাগ এলাকায় সমকামিতা-বিরোধী স্লোগান দিয়ে মার্চ করছিল। তিনি বলেন, 'আমরা পাশের একটি রাস্তার দোকানে চা খাচ্ছিলাম, তখন দলটি আমাদের ঘিরে ধরে। যখন আমরা স্থান ত্যাগ করতে যাচ্ছিলাম, তারা নারীদের অশালীনভাবে স্পর্শ করা শুরু করে। আমরা বারবার মারধর না করার অনুরোধ করলেও তারা আমাদের মাথায় লক্ষ্য করে আঘাত করতে থাকে।'
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, হামলার সময় আক্রমণকারীরা সমকামী ও ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সহিংসতা উসকে দেয়া স্লোগান দিচ্ছিল। এছাড়া, তিনি অভিযোগ করেন যে সেখানে উপস্থিত একজন ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তিকেও মাথায় আঘাত করে মারধর করা হয়েছিল।
অন্যান্য আক্রান্তের অভিজ্ঞতা
অন্য একজন আক্রান্ত নিরনয় এইচ ইসলাম ব্যাখ্যা করেন যে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে মঙ্গল শোভাযাত্রার প্রস্তুতি দেখতে গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, 'আমাদের উপর হামলার আগে তারা সেখানে একটি সমাবেশ করছিল। আক্রমণের সময় আমাকে লাথি মারা হয়। আমি তাদের থামানোর চেষ্টা করছিলাম, কিন্তু তারা নারীদের লক্ষ্য করে এবং আমাদের ইচ্ছামতো মারধর শুরু করে।'
তিনি এই প্রশ্নও তুলেছেন যে একজন ব্যক্তির পোশাক বা শারীরিক চেহারা দেখে কীভাবে তার যৌন অভিমুখিতা নির্ধারণ করা সম্ভব।
হামলার পটভূমি ও পুলিশের প্রতিক্রিয়া
হামলার আগে, 'আজাদী আন্দোলন' শাহবাগে একটি সমাবেশের আয়োজন করেছিল, যেখানে তারা এলাকাটিকে 'সমকামী কর্মসূচি' থেকে মুক্ত করার দাবি জানায়। এই ঘটনায় শাহবাগ থানার অফিসার-ইন-চার্জ মোনিরুজ্জামান মিডিয়াকে জানান, ঘটনার বিস্তারিত তথ্য এখনও সংগ্রহ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, 'আমরা আক্রান্তদের চিকিৎসা সেবা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছি। আমরা বিষয়টি তদন্ত করব।' তিনি যোগ করেন যে শুক্রবার রাত পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি।
সামাজিক মাধ্যম ও জনপ্রতিক্রিয়া
এই হামলার ভিডিও ফুটেজ সামাজিক মাধ্যম প্ল্যাটফর্মে ব্যাপকভাবে শেয়ার হয়েছে, যা একটি জনতা কর্তৃক বেশ কয়েকজন ব্যক্তিকে শারীরিকভাবে আক্রমণ করার দৃশ্য ধারণ করেছে। এই ঘটনায় মানবাধিকার সংগঠন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে, যারা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানাচ্ছেন।
এই ধরনের সহিংসতা ও হয়রানি বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে একটি উদ্বেগজনক প্রবণতা হিসেবে দেখা দিয়েছে, বিশেষ করে সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, এমন ঘটনাগুলো সমাজে সহিষ্ণুতা ও বৈচিত্র্যকে ক্ষুণ্ণ করছে এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।



