লক্ষ্মীপুরে ইটভাটা শ্রমিককে ঝুলিয়ে মধ্যযুগীয় নির্যাতন, ভিডিও ভাইরালে তোলপাড়
লক্ষ্মীপুরে ইটভাটা শ্রমিককে ঝুলিয়ে নির্যাতন, ভিডিও ভাইরাল

লক্ষ্মীপুরে ইটভাটা শ্রমিককে ঝুলিয়ে মধ্যযুগীয় নির্যাতন, ভিডিও ভাইরালে তোলপাড়

লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় এক ইটভাটা শ্রমিককে পাওনা টাকা ও কাজে না যাওয়ার অজুহাতে ঘরবন্দি করে ঝুলিয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় পাশবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকালে তোরাবগঞ্জ ইউনিয়নের চুঙ্গারগোড়া এলাকায় সংঘটিত এই নির্মম ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

ভুক্তভোগী শ্রমিক আবুল কালাম কালু কমলনগর উপজেলার চরবসু এলাকার বাদামতলী বাজার সংলগ্ন স্থানের বাসিন্দা। অপরদিকে, অভিযুক্ত ইসমাইল পেশায় একজন ইটভাটা মাঝি, যিনি একই উপজেলার তোরাবগঞ্জ এলাকায় বসবাস করেন। জানা গেছে, কালু ইসমাইল মাঝির কাছ থেকে ইটভাটায় শ্রমিকের কাজের কথা বলে অগ্রিম টাকা নিয়েছিলেন, কিন্তু পরবর্তীতে ব্যক্তিগত বা অন্য কোনো কারণে কাজে না যাওয়ায় ইসমাইল ক্ষুব্ধ হন।

এই ক্ষোভের জের ধরে শুক্রবার সকালে ইসমাইল মাঝি কালুকে চুঙ্গারগোড়া এলাকায় ধরে নিয়ে যান। সেখানে একটি নির্জন ঘরের আড়ার সঙ্গে রশি দিয়ে তার দু-হাত বেঁধে ঝুলিয়ে দেওয়া হয় এবং মধ্যযুগীয় পদ্ধতিতে পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, কালু যন্ত্রণায় চিৎকার করছেন, আর ইসমাইল মাঝি তাকে বেধড়ক মারধর করছেন। এই মর্মান্তিক দৃশ্য দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং ঘটনার প্রতিবাদে সোচ্চার হন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পুলিশের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও তদন্ত

ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পরপরই কমলনগর থানা পুলিশ সক্রিয় হয়ে উঠে। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভুক্তভোগী কালুকে উদ্ধার করে এবং তাৎক্ষণিকভাবে তাকে হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। তবে অভিযুক্ত ইসমাইল মাঝি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন, যাকে গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে বলে জানানো হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, "ঘটনাটি নজরে আসা মাত্রই আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে, এবং অপরাধী যেই হোক, তাকে কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না।" তার এই বক্তব্য স্থানীয় জনগণের মধ্যে আশার আলো জাগিয়েছে।

স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও দাবি

সামান্য পরিমাণ পাওনা টাকা বা কাজের অজুহাতে একজন মানুষকে এভাবে নির্যাতনের ঘটনায় স্থানীয় সুশীল সমাজ ও সাধারণ মানুষের মাঝে গভীর ঘৃণা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা দ্রুত ইসমাইল মাঝিকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন হীন ও বর্বর কাজ করার সাহস না পায়। এই ঘটনা শ্রমিক অধিকার ও মানবিক মূল্যবোধের প্রশ্নে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার সূত্রপাত করেছে, যা সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দাবিকে আরও জোরালো করে তুলছে।