মুক্তিযুদ্ধের শহীদ ও নির্যাতিত নারীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা চেয়ে ১৫ দিনের আল্টিমেটাম
মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের তালিকা চেয়ে ১৫ দিনের আল্টিমেটাম

মুক্তিযুদ্ধের শহীদ ও নির্যাতিত নারীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা চেয়ে ১৫ দিনের আল্টিমেটাম

জাতীয় মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশের দাবিতে সরকারকে ১৫ দিনের আল্টিমেটাম দিয়ে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে নির্যাতিত নারীদের তালিকা প্রকাশ ও তাদের ক্ষতিপূরণের বিষয়েও জরুরি পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।

আইনজীবীর নোটিশে ঐতিহাসিক দাবি

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা)-এর মহাপরিচালক বরাবর এ নোটিশ পাঠান। নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকার স্বীকৃতিপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্ন সুবিধা দিয়ে আসলেও স্বাধীনতার এত বছর পরও ৩০ লাখ শহীদ এবং দেশের জন্য সম্ভ্রম হারানো ২ লাখ নারীর পূর্ণাঙ্গ তালিকা যাচাই-বাছাই করে প্রকাশ করা হয়নি।

বিষয়টিকে একটি ঐতিহাসিক অবিচার এবং জাতীয় ট্র্যাজেডি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে নোটিশে। আইনজীবী মাহমুদুল হাসান তার নোটিশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, শহীদ ও নির্যাতিত নারীদের পরিবারগুলোর প্রতি রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালনে এই বিলম্ব অত্যন্ত দুঃখজনক।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

১৫ দিনের মধ্যে তালিকা প্রকাশের আহ্বান

নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে তালিকা প্রস্তুত করে তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করতে হবে। পাশাপাশি শহীদ ও নির্যাতিত নারীদের পরিবারের সদস্যদের সম্মানজনক আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য নীতিমালা প্রণয়নের জরুরি আহ্বান জানানো হয়েছে।

আইনজীবীর নোটিশে সতর্ক করে বলা হয়েছে, অন্যথায় এ বিষয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হবে। এই আইনি পদক্ষেপ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণ ও শহীদ পরিবারগুলোর অধিকার প্রতিষ্ঠার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এতদিন ধরে শহীদ তালিকা প্রস্তুতির কাজ চালিয়ে আসলেও এখনও পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করতে পারেনি। এই বিলম্ব নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে ক্রমাগত সমালোচনা আসছে। নোটিশে উল্লেখিত প্রধান দাবিগুলো হলো:

  • ৩০ লাখ শহীদ মুক্তিযোদ্ধার পূর্ণাঙ্গ ও যাচাইকৃত তালিকা প্রস্তুতকরণ
  • ২ লাখ নির্যাতিত নারীর সঠিক তালিকা প্রকাশ
  • শহীদ ও নির্যাতিত নারীদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ নীতিমালা প্রণয়ন
  • ১৫ দিনের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে তালিকা প্রকাশের ব্যবস্থা গ্রহণ

এই নোটিশ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও শহীদদের স্মৃতি রক্ষায় একটি যুগান্তকারী আইনি উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দেশের ইতিহাসের এই গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য এই দাবি জাতীয় পর্যায়ে আলোচনার সূত্রপাত ঘটাতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।