ফরিদপুরে ধর্ষণ মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও জরিমানা
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে জামান খালাসী নামের এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে, যা অনাদায়ে আরও তিন বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুর ৩টার দিকে ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন।
আসামির অনুপস্থিতিতে রায় ও গ্রেফতারি পরোয়ানা
রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত না থাকায় তার অনুপস্থিতিতেই রায় ঘোষণা করা হয়। পরে আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। জামান খালাসী ভাঙ্গা উপজেলার আজিমনগর ইউনিয়নের সদর গ্রামের বাসিন্দা হিসেবে পরিচিত।
মামলার পটভূমি ও ঘটনার বিবরণ
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালে ওই তরুণীর বিয়ে হয় পাশের এক গ্রামে। স্বামীর সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় তিনি বাবার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। ২০১৮ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বাড়ির পাশের একটি দোকান থেকে ফেরার পথে জামান ও তার এক অজ্ঞাত সহযোগী তাকে জোরপূর্বক বাড়ির পাশের একটি কালাইখেতে নিয়ে ধর্ষণ করে। পরে তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে তারা পালিয়ে যায়।
মামলা দায়ের ও তদন্ত প্রক্রিয়া
এ ঘটনায় পরদিন ২৫ ফেব্রুয়ারি ভুক্তভোগী নারী শিশু নির্যাতন দমন আইনে ভাঙ্গা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় জামানের পাশাপাশি এক অজ্ঞাত সহযোগীকেও আসামি করা হয়। মামলাটি তদন্ত করেন ভাঙ্গা থানার তৎকালীন পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মিরাজ হোসেন। তিনি ২০১৮ সালের ১৮ জুন মামলার তদন্ত শেষে জামানকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
আদালতের রায় ও আইনগত দিক
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আদালতের পিপি গোলাম রব্বানী বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় আদালত এ সাজা প্রদান করেছেন। রায়ের সময় আসামি অনুপস্থিত থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। তিনি এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব তুলে ধরেন। এই সিদ্ধান্তটি ফরিদপুর অঞ্চলে নারী নির্যাতন বিরোধী আইনের কঠোর প্রয়োগের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



