নামাজরত স্ত্রীকে গলা পেঁচিয়ে হত্যা: স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড নোয়াখালীতে
নামাজরত স্ত্রী হত্যায় স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

নামাজরত স্ত্রী হত্যায় স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড নোয়াখালীতে

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় এক মর্মান্তিক ঘটনায় নামাজরত স্ত্রীকে গলা পেঁচিয়ে হত্যার দায়ে স্বামীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ২০১৮ সালের ৩ জানুয়ারি মুছাপুল ইউনিয়নে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ডের বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে আজ মঙ্গলবার রায় ঘোষণা করা হয়।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

ঘটনাটি ঘটে ভোরবেলায় যখন গৃহবধূ শাহানারা বেগম নামাজ পড়ছিলেন। এই সময় তাঁর স্বামী গোলাম সারোয়ার (৪০) হঠাৎ একটি গামছা নিয়ে এসে স্ত্রীর গলা পেঁচিয়ে ধরেন এবং শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। নিহত শাহানারা বেগম ও গোলাম সারোয়ারের দুই সন্তান রয়েছে, যাদের মধ্যে একজন ঘটনার সময় মাত্র ৯ বছর বয়সী ছিল।

হত্যার ঘটনায় শাহানারা বেগমের বাবা বাদী হয়ে ওই দিনই মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ ছয় বছরের বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে নোয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১–এর বিচারক মোহাম্মদ খোরশেদুল আলম সিকদার আজ দুপুরে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আদালতের রায় ও সাক্ষ্যপ্রমাণ

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১–এর রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি মো. সেলিম শাহী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, শাহানারা বেগমকে নামাজরত অবস্থায় গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়েছিল এবং আদালতে এই বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত এই রায় দিয়েছেন, যা সমাজে অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে।

মামলায় নিহত শাহানারা বেগমের ছেলে সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছে, যা এই মামলার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। আদালত সূত্রে জানা যায়, এই সাক্ষ্য বিচারকদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সমাজে বার্তা ও প্রতিক্রিয়া

এই রায় নারী নির্যাতন ও পারিবারিক সহিংসতার বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী সংকেত হিসেবে কাজ করবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। নামাজরত অবস্থায় একজন নারীর হত্যা ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল এবং এখন আদালতের রায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

নোয়াখালী জেলার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সামাজিক সংগঠনগুলো এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছে, যা ভবিষ্যতে অনুরূপ অপরাধ রোধে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই ঘটনা পারিবারিক সহিংসতার ভয়াবহতা এবং আইনের কঠোর প্রয়োগের গুরুত্বকে আরও একবার সামনে নিয়ে এসেছে।