সুইডেনে স্ত্রীকে দেহব্যবসায় বাধ্যকারী ব্যক্তির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ গঠন
সুইডেনে একটি আলোচিত মামলায় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে গঠন করা হয়েছে। সোমবার (৩০ মার্চ) দেশটির প্রসিকিউটর ওই ৬২ বছর বয়সী ব্যক্তিকে দেহব্যবসা, একাধিক ধর্ষণ এবং হামলার অভিযোগে অভিযুক্ত করেন। এই ঘটনা সুইডেনজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও নিন্দার সৃষ্টি করেছে।
তদন্তে উঠে এসেছে ভয়াবহ শোষণের কাহিনী
তদন্তে উঠে এসেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি তার স্ত্রীকে অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন পুরুষের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হতে বাধ্য করতেন। প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি একটি পরিকল্পিত ও ধারাবাহিক শোষণের ঘটনা, যেখানে ভুক্তভোগী নারী দীর্ঘ সময় ধরে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এই ঘটনায় অন্তত ১২০ জন পুরুষ জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি বহু বছর ধরে তার স্ত্রীর ওপর চাপ প্রয়োগ করে যৌন কার্যকলাপে অংশ নিতে ও তা মেনে নিতে বাধ্য করে অর্থ উপার্জন করতেন। তিনি অনলাইনে বিজ্ঞাপন তৈরি করতেন, গ্রাহকদের সঙ্গে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করতেন এবং পুরো কার্যক্রমে পাহারার দায়িত্ব পালন করতেন। আরও বেশি গ্রাহক আকর্ষণের জন্য তিনি স্ত্রীকে অনলাইনে যৌন কার্যকলাপে অংশ নিতেও চাপ দিতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
গ্রেপ্তার ও বিচারের তারিখ নির্ধারণ
৬২ বছর বয়সী অভিযুক্ত ব্যক্তিকে তার স্ত্রীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের অক্টোবর মাসে গ্রেপ্তার করা হয়। সেই সময় থেকেই তিনি কারাগারে রয়েছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব ঘটনা ১১ আগস্ট ২০২২ থেকে ২১ অক্টোবর ২০২৫ সালের মধ্যে ঘটেছে।
অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আটটি ধর্ষণের অভিযোগও আনা হয়েছে। প্রসিকিউটর এই ঘটনাকে 'নির্মম শোষণ' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। মামলার বিচার কার্যক্রম আগামী ১৩ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
অতিরিক্ত অভিযোগ ও প্রতিক্রিয়া
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি তার স্ত্রীর ওপর সহিংসতা ও হুমকি প্রয়োগ করতেন এবং তার মাদকাসক্তির সুযোগ নিতেন। পাশাপাশি তাকে মাদক সরবরাহ করার অভিযোগও রয়েছে। এই মামলাটি সুইডেনের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে, কারণ এটি দীর্ঘমেয়াদী শোষণ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের একটি জটিল উদাহরণ।
সুইডেনের সমাজে এই ঘটনা নারী নির্যাতন ও দেহব্যবসা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির দাবি জোরালো করেছে। অনেক সংগঠন ও নাগরিক এই মামলার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।



