ময়মনসিংহের ফুলপুরে ধর্ষণের অভিযোগে বিষপানে কিশোরীর মৃত্যু, পুলিশ অভিযুক্তকে খুঁজছে
ধর্ষণ অভিযোগে বিষপানে কিশোরীর মৃত্যু, পুলিশ খুঁজছে অভিযুক্তকে

ময়মনসিংহের ফুলপুরে ধর্ষণের অভিযোগে বিষপানে কিশোরীর মৃত্যু

ময়মনসিংহ জেলার ফুলপুর উপজেলায় একটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। ধর্ষণের অভিযোগ ওঠার পর এক কিশোরী বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার দিবাগত রাত তিনটার দিকে তার মৃত্যু হয়। ময়নাতদন্ত শেষে সোমবার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ঘটনার বিবরণ ও পরিবারের বেদনা

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মারা যাওয়া কিশোরীর বয়স ছিল ১৩ বছর। সে স্থানীয় একটি উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল। ফুলপুরের একটি ইউনিয়নের বাসিন্দা রুবেল মিয়া (৩৬) রোববার রাতে তাকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর মেয়েটি প্রতিবেশী রুবেলের বাড়িতে গিয়ে কীটনাশক পান করে।

ফুলপুর থানায় লাশ নিয়ে এসে মেয়েটির দাদি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার নাতনি বিষ খেয়ে এসে বলে, “রুবেল আমারে ধর্ষণ করছে, আমি আর বাঁচতে চাই না।” ময়মনসিংহ নিয়েও নাতনিরে বাঁচাইতে পারি নাই। আমি রুবেলের ফাঁসি চাই।’ সন্ধ্যার পর থানায় লাশ নিয়ে এসে স্বজনেরা এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের দাবি জানান। পরে পুলিশের ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসে রাত সাড়ে আটটার দিকে লাশ নেওয়া হয় মেয়েটির বাড়িতে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

চিকিৎসা ও পুলিশের তদন্ত

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিষপানে অসুস্থ অবস্থায় রোববার রাত ১১টার পর মেয়েটিকে প্রথমে ফুলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুর্ভাগ্যবশত, ভোররাতে মেয়েটির মৃত্যু হয়। ময়নাতদন্ত শেষে সোমবার সন্ধ্যার পর লাশ নিয়ে থানায় গিয়ে মেয়েটির স্বজনেরা অভিযুক্ত ব্যক্তির বিচার চান। পুলিশ লাশ দাফনের পর থানায় আসার জন্য পরামর্শ দিয়ে তাদের বাড়িতে পাঠান। রাত সাড়ে আটটার দিকে নিহত কিশোরীর লাশ বাড়িতে নেওয়ার পর স্বজনেরা কান্নায় ভেঙে পড়েন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ফুলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদুল হাসান বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে নানাভাবে অনৈতিক কাজ করছিলেন। মেয়েটির স্বজনেরা থানায় এলে তাঁদের বুঝিয়ে বাড়িতে পাঠানো হয়। লাশ দাফন শেষে পরিবারটিকে থানায় আসতে বলা হয়েছে। ঘটনার খবর পেয়ে দুপুর থেকে অভিযুক্ত রুবেলকে ধরার চেষ্টা চলছে। কিন্তু সে পালিয়ে গেছে।’

সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া ও আইনী পদক্ষেপ

এই ঘটনা স্থানীয় সম্প্রদায়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। অনেকেই নারী নিরাপত্তা ও শিশু সুরক্ষার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, তারা অভিযুক্ত রুবেল মিয়াকে গ্রেপ্তারের জন্য তৎপরতা চালাচ্ছে এবং ঘটনার তদন্ত জোরদার করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে আইনী সহায়তা ও দ্রুত বিচারের দাবি উঠেছে।

এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা ও কঠোর আইনী ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হচ্ছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই মামলায় নজরদারি রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।