গোপালগঞ্জে বিয়ের প্রলোভনে তিন সন্তানের মাকে ধর্ষণ: মামলা দায়ের, আসামি অস্বীকার
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলায় একটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে, যেখানে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তিন সন্তানের জননীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় দুজনের নামে মামলা করা হয়েছে, এবং আদালত মামলাটি নথিভুক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
ঘটনার বিবরণ
ঘটনাটি ঘটেছে কাশিয়ানী উপজেলার গোপালপুর বাজারে অবস্থিত ‘কুটুমবাড়ি হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে’। ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে গোপালগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেছেন। মামলার এজাহার অনুযায়ী, অভিযুক্ত রাকিব মোল্যা (৩৩) এবং ভুক্তভোগী নারী উভয়ই ওই হোটেলে কর্মচারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
রাকিব বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে নারীটিকে অনৈতিক সম্পর্কের প্রস্তাব দেন, কিন্তু নারীটি রাজি না হওয়ায় তিনি সুযোগ খুঁজতে থাকেন। গত ১৪ মার্চ, রুম পরিষ্কার করার কথা বলে কৌশলে তাকে হোটেলের একটি নির্জন কক্ষে ডেকে নিয়ে যান রাকিব। সেখানে হোটেলের মালিক মজনু মোল্যার (৪০) সহযোগিতায় রাকিব নারীটিকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। উল্লেখ্য, রাকিব হোটেল মালিক মজনুর বোনের দেবর।
আত্মহত্যার চেষ্টা ও উদ্ধার
ঘটনাটি জানাজানি হলে লোকলজ্জা ও সামাজিক অপমানের ভয়ে ভুক্তভোগী নারী গুলপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। গুরুতর অবস্থায় হোটেল মালিক মজনু মোল্যা নিজেই তাকে উদ্ধার করে দ্রুত কাশিয়ানী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তার পাকস্থলী পরিষ্কার (ওয়াশ) করানো হয়। সুস্থ হওয়ার পর নারীটি আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
মামলা ও আইনি প্রক্রিয়া
রোববার (২৯ মার্চ) বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সজীব সরদার মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ‘বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এবং প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে ওই নারীকে ধর্ষণ করা হয়েছে। আমরা আদালতের কাছে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেছি। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন।’
অভিযুক্ত মজনু ও রাকিবের সঙ্গে কথা হলে তারা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘ঘটনাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।’ কাশিয়ানী থানার ওসি মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান জানান, ‘আদালতের নির্দেশের কপি আমাদের কাছে পৌঁছায়নি। নথি হাতে পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’
সামাজিক প্রভাব
এই ঘটনা গোপালগঞ্জে নারী নির্যাতনের একটি উদ্বেগজনক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা ন্যায়বিচারের দাবি জানাচ্ছেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এমন ঘটনাগুলো সামাজিক সচেতনতা ও কঠোর আইনি ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিরোধ করা উচিত।



