লক্ষ্মীপুরে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ, স্বামীর বিচার চাইতে গিয়ে গৃহবধূ নিগৃহীত
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় এক গৃহবধূ স্বামীর বিচার চাইতে গিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতার হাতে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় ভুক্তভোগী শুক্রবার রাতে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন, এবং পুলিশ এখন তদন্ত করছে।
ঘটনার বিবরণ
রোববার সন্ধ্যায় রায়পুর উপজেলার দক্ষিণ চরআবাবিল ইউনিয়নের মিতালি বাজারের পাশে গাইয়ারচর গ্রামে অভিযুক্ত বিএনপি নেতার পানের বরজে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর আলম ওই ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে পরিচিত।
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে ভুক্তভোগীর স্বামীর সঙ্গে তার পারিবারিক কলহ চলছিল। গত ২২ মার্চ তিনি বিচার চাইতে জাহাঙ্গীর আলমের কাছে যান। পরে সুযোগ বুঝে তাকে বাড়িতে না নিয়ে পানের বরজে ডেকে নিয়ে জাহাঙ্গীর ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ। ঘটনাটি গোপন রাখতে ভয়ভীতি ও হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
ভুক্তভোগী পরিবারের বক্তব্য
গৃহবধূর স্বামী বলেন, "স্ত্রীর কাছ থেকে ঘটনাটি জানার পর আমি জাহাঙ্গীরের সঙ্গে কথা বললে আমাকেও হুমকি দেওয়া হয়। থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়ে গত সাত দিনেও আমি বিচার পাইনি। আমি বিচার চাই।" তিনি আরও অভিযোগ করেন, জাহাঙ্গীর ও তার খালাতো ভাই ইউনিয়ন বিএপির সভাপতি বিল্লাল মৈশাল তাকে অভিযোগ তুলে নিতে নিয়মিত হুমকি দিচ্ছেন।
বিপক্ষের প্রতিক্রিয়া
বিল্লাল মৈশাল এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, "মামলার বাদীর স্বামীর সঙ্গে জাহাঙ্গীরের পূর্বের বিরোধ রয়েছে। সেই প্রতিশোধ নিতে তারা মিথ্যা ধর্ষণের অভিযোগ দিয়ে হয়রানি করছে।" তিনি জানান, এসপি সার্কেল ঘটনা তদন্ত করছেন এবং তাদের থানায় ডেকেছেন।
অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর আলমও নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, "আমি মেয়েটি ও তার স্বামীর ষড়যন্ত্রের শিকার। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ধর্ষণ মামলা হয়েছে, এবং আমি এর বিচার চাই।"
পুলিশের অবস্থান
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল রায়পুর ও রামগঞ্জ) জামিলুল হক বলেন, জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। "শুক্রবার রাতে ঘটনাস্থল ও মেয়েটির পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি। কিছু সমস্যা পেয়েছি, এবং তা তদন্ত চলছে," তিনি উল্লেখ করেন। পুলিশ এখন ঘটনার সত্যতা যাচাই ও আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করছে বলে জানা গেছে।
এ ঘটনা স্থানীয়ভাবে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, এবং ন্যায়বিচারের দাবিতে সম্প্রদায়ের সদস্যরা সোচ্চার হচ্ছেন। তদন্তের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ আইনি পদক্ষেপের দিকে সকলের নজর রয়েছে।



