আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মামলায় মারুফ হোসেনের মামার জবানবন্দি
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরা ও বাড্ডা এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জবানবন্দি দিয়েছেন গুলিতে নিহত মারুফ হোসেনের মামা মো. ফয়সাল। তিনি ট্রাইব্যুনালে দেওয়া জবানবন্দিতে বিস্তারিত ঘটনা বর্ণনা করেছেন এবং আসামিদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
জবানবন্দির মূল বিবরণ
বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ জবানবন্দি দেন ফয়সাল। দুই সেনা কর্মকর্তাসহ চার আসামির বিরুদ্ধে করা এই মামলায় তিনি দ্বিতীয় সাক্ষী হিসেবে হাজির হন। মামলার চার আসামির মধ্যে দুজন বর্তমানে গ্রেপ্তার আছেন। তাঁরা হলেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) তৎকালীন কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ রেদোয়ানুল ইসলাম ও মেজর মো. রাফাত-বিন-আলম। মামলার পলাতক অপর দুই আসামি হলেন পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম ও বাড্ডা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মশিউর রহমান।
ঘটনার দিনের স্মৃতিচারণ
জবানবন্দিতে সাক্ষী ফয়সাল বলেন, গত ১৯ জুলাই বিকেলে ভাগনে মারুফ তাঁকে ফোন দিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে আন্দোলনে যোগ দিতে বলেন। ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির সামনে গিয়ে তিনি দেখেন, মারুফ ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির বিপরীতে থানা রোডের মাথায় অবস্থান করছেন। তিনি মারুফের পাশে গিয়ে দাঁড়ান। সেখানে তাঁর বন্ধু রাজীবও ছিলেন। তখন তাঁরা রামপুরা ব্রিজের দিক থেকে একটি গুলির শব্দ পান।
ফয়সাল জবানবন্দিতে আরও বলেন, রামপুরা ব্রিজের দিকে পুলিশ, বিজিবি ও আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা সশস্ত্র অবস্থায় ছিল। গুলির শব্দ পেয়ে তিনি দৌড়ে উত্তর দিকে ৫০ হাতের মতো দূরে চলে যান। তখন তাঁর বন্ধু রাজীব তাঁকে ফোন দিয়ে জানান, মারুফ গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তিনি দৌড়ে মারুফের কাছে যান। তখন মারুফ তাঁকে বলেন, ‘মামা, আমাকে বাঁচাও।’ ফয়সাল দেখতে পান, মারুফের তলপেটের ডান পাশে গুলি লেগেছে। পরে তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, ১৫ থেকে ২০ মিনিট আগেই মারুফ মারা গেছেন।
আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ
সাক্ষ্য শেষে ফয়সাল বলেন, পরে বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে তিনি জানতে পারেন, রেদোয়ান, রাফাত, রাশেদ, মশিউর ও আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী বাবুল তাঁর ভাগনে মারুফসহ ঘটনাস্থলে সংঘটিত অসংখ্য হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তিনি এসব আসামির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। এই মামলাটি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এই ধরনের মামলার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে, যা বাংলাদেশে মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করছে। সাক্ষী ফয়সালের জবানবন্দি এই মামলার তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন।
