লঞ্চে শিক্ষার্থী ধর্ষণ: বিচারের দাবিতে ছাত্র ইউনিয়নের বিক্ষোভ সমাবেশ
নোয়াখালীর হাতিয়া থেকে ঢাকাগামী একটি লঞ্চে এক কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের (একাংশ) কেন্দ্রীয় কমিটি। বুধবার রাত আটটার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এক বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এই দাবি জানানো হয়।
গ্রেপ্তার ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা
এ ঘটনায় ইতিমধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁরা হলেন মো. সাকিব উদ্দিন ও মো. নুরুজ্জামান মিঠু। ছাত্র ইউনিয়নের সমাবেশে দাবি করা হয়, গ্রেপ্তার দুজন জাতীয় নাগরিক পার্টির কর্মী। যদিও তাঁদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের (একাংশ) কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি তামজিদ হায়দার চঞ্চল বলেন, ‘আমরা নানা জায়গা থেকে জেনেছি ওরা দুজন হান্নান মাসউদের (হাতিয়ার সংসদ সদস্য) ঘনিষ্ঠজন। তাঁরা সরাসরি কোনো পদে নেই, তবে নির্বাচনের সময় হান্নান মাসউদের হয়ে প্রচারের কাজ করেছেন। ফেসবুকে বিভিন্ন পোস্টে আমরা তাঁদের এনসিপি নেতা হিসেবেই দেখছি।’
আন্দোলন ও ভবিষ্যৎ কর্মসূচি
তামজিদ হায়দার আরও বলেন, ‘আমাদের আন্দোলন অব্যাহতভাবে চলবে। আমরা ঈদের আগেই সারা দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্ষণবিরোধী বিভিন্ন কর্মসূচি চালিয়ে যাব।’ সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয়, মহানগর এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা–কর্মীরা।
ঘটনার বিবরণ
গত রোববার নোয়াখালীর হাতিয়া থেকে ঢাকাগামী একটি লঞ্চে এক কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ওই কলেজছাত্রীর বাবা হাতিয়া থেকে ঢাকাগামী একটি লঞ্চে মেয়েকে তুলে দিয়েছিলেন। লঞ্চের কেবিনে ওই ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হন বলে অভিযোগ এসেছে। এই ঘটনা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং ন্যায়বিচারের দাবিতে জনমত গড়ে উঠছে।
ছাত্র ইউনিয়নের নেতারা জোর দিয়ে বলেছেন, এই ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। তারা সরকার ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। এই বিক্ষোভ সমাবেশে শতাধিক শিক্ষার্থী ও কর্মী অংশগ্রহণ করে, যারা ধর্ষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা পালন করছেন।
