বগুড়ার শেরপুরে কিশোর নির্যাতনের শিকার: এক আসামি গ্রেপ্তার
বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলায় এক কিশোরকে (১৩) আটক করে বিবস্ত্র করে মারধর ও মাথার চুল কেটে নির্মম নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় ওই কিশোরের বাবা গত মঙ্গলবার রাতে থানায় মামলা করেছেন। পুলিশ ইতিমধ্যে মামলায় নাম উল্লেখিত ছয় আসামির মধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
ঘটনার বিবরণ ও গ্রেপ্তার
শেরপুর থানার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার দুপুরে খেলাধুলাকে কেন্দ্র করে এজাহারনামীয় ছয় আসামি ওই কিশোরকে উপজেলার খন্দকারটোলা এলাকায় আটক করে মারধর করেন। একপর্যায়ে তার মাথার চুল কেটে বিবস্ত্র করে নির্যাতন চালানো হয়। এই ঘটনায় কিশোরটি শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং তাকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
গ্রেপ্তারকৃত আসামি হলেন মোতালেব আলভী (১৯)। তাঁর বাড়ি সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার বেংনাই গ্রামে। মোতালেব আলভী শেরপুর উপজেলার খন্দকারটোলা এলাকায় আত্মীয়ের বাড়ি থেকে অনলাইনে নতুন জামাকাপড়ের ব্যবসা করেন। গ্রেপ্তারের পর বুধবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে তাঁকে বগুড়ার কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলা ও তদন্তের অগ্রগতি
শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী বলেন, চিকিৎসা শেষে গত মঙ্গলবার রাতে ওই কিশোরের বাবা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছয়জনের নামে থানায় মামলা করেন। গ্রেপ্তারকৃত মোতালেব আলভী এই মামলার দুই নম্বর আসামি। অন্য আসামিরা পলাতক রয়েছেন এবং তাঁদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ তৎপরতা চালাচ্ছে।
ওসি ইব্রাহীম আলী আরও উল্লেখ করেন, এই ঘটনা অত্যন্ত গুরুতর এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কিশোরটি স্থানীয় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী, এবং এই নির্যাতনের প্রভাব তার মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যে দীর্ঘমেয়াদী হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া ও নিরাপত্তা উদ্বেগ
এই ঘটনা স্থানীয় সম্প্রদায়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। অনেকেই শিশু নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত ন্যায়বিচার দাবি করছেন। পুলিশ আশ্বাস দিয়েছে যে বাকি আসামিদের শীঘ্রই গ্রেপ্তার করা হবে এবং আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা হবে।
এছাড়াও, শিশু অধিকার সংগঠনগুলো এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সরকার ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে জোরালো পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে। তারা শিশুদের প্রতি সহিংসতা রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের উপর জোর দিয়েছে।



