নারায়ণগঞ্জে স্বর্ণ চুরির অভিযোগে তিন নারীকে বেঁধে শারীরিক নির্যাতন ও চুল কাটার ঘটনায় তোলপাড়
নারায়ণগঞ্জে স্বর্ণ চুরির অভিযোগে তিন নারী নির্যাতন

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে স্বর্ণ চুরির অভিযোগে তিন নারীকে বেঁধে শারীরিক নির্যাতন ও চুল কাটার ঘটনায় তোলপাড়

নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলায় এক মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকাবাসীকে নাড়া দিয়েছে। স্বর্ণালংকার চুরির অভিযোগে তিন নারীকে দড়ি দিয়ে বেঁধে শারীরিক নির্যাতন ও শ্লীলতাহানি করে মাথার চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি সোমবার (২ মার্চ) দুপুরে গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের ডহরগাঁও এলাকায় সংঘটিত হয়।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রমতে, রূপগঞ্জের গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের ডহরগাঁও এলাকার ব্যবসায়ী সেলিম মিয়ার বাড়িতে তিন নারী প্রবেশ করেন। পরে তাদের বিরুদ্ধে স্বর্ণালংকার চুরির অভিযোগ ওঠে। এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় লোকজন নারীদের আটক করেন। তাদের দড়ি দিয়ে বেঁধে মারধর করা হয় এবং একপর্যায়ে কাঁচি দিয়ে মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

নারীদের পরিচয় ও বক্তব্য

আটক তিন নারী হলেন: কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর থানার জাহাপুর এলাকার বাবু মিয়ার স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার (৩২), খুলনার খালিশপুর থানার দীঘলিয়া এলাকার সুজন মিয়ার স্ত্রী ইতি আক্তার (২৭) এবং বালিয়াপাড়া এলাকার রুহুল আমিনের স্ত্রী শারমিন আক্তার (৩৬)। পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় নারীরা দাবি করেন, তারা কাজের খোঁজে রূপগঞ্জে এসেছিলেন। স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় ঈদের পর তারা যোগদান করার পরিকল্পনা করছিলেন এবং এপ্রিল মাস থেকে বাসা ভাড়া নেওয়ার জন্য সেই বাড়িতে গিয়েছিলেন। বাসাভাড়া নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনে আটকে রাখা হয়। পরে এলাকাবাসী তাদের মারপিট, টানাহেঁচড়া, শারীরিক নির্যাতন, লাঞ্ছিত ও শ্লীলতাহানি করে গাছের সাথে বেঁধে মাথার চুল কেটে দেন।

পুলিশের হস্তক্ষেপ ও আইনি পদক্ষেপ

খবর পেয়ে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিন নারীকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়। নারায়ণগঞ্জ জেলা সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী ইসলাম বলেন, "চুরির অভিযোগে আইনগত শাস্তির বিধান রয়েছে। তবে কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারে না। কাউকে বেঁধে মারধর করা বা মাথার চুল কেটে দেওয়া দণ্ডনীয় অপরাধ।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্প্রদায়িক প্রতিক্রিয়া ও সামাজিক প্রভাব

এই ঘটনা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর নারী অধিকার ও আইনের শাসন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অনেকেই আইন নিজের হাতে নেওয়ার এই প্রবণতাকে কঠোর ভাষায় নিন্দা জানিয়েছেন। পুলিশের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও আইনি পদক্ষেপের ঘোষণা কিছুটা স্বস্তি দিলেও, নারী নির্যাতনের এই ঘটনা দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।