ইরানের বিক্ষোভে ৩২ হাজার মৃত্যুর দাবি ট্রাম্পের, প্রমাণ চাইলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ইরানের সাম্প্রতিক বিক্ষোভে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ৩২ হাজার মানুষের মৃত্যুর দাবিকে ঘিরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাকযুদ্ধ আরও তীব্র হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ট্রাম্পের এই দাবির পক্ষে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপনের আহ্বান জানিয়েছেন।
আরাগচির আহ্বান ও ইরানের স্বচ্ছতার দাবি
আরাগচি ওয়াশিংটনের উদ্দেশে বার্তা দিয়ে বলেন, "পরিসংখ্যান নিয়ে যদি কোনো সন্দেহ থাকে, তবে তার প্রমাণ প্রকাশ করা উচিত।" তিনি দাবি করেন যে ইরান সরকার সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্তদের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করেছে। তেহরানের দেওয়া তথ্যানুসারে, ওই তালিকায় ৩ হাজার ১১৭ জন বেসামরিক নাগরিক এবং ২০০ জন নিরাপত্তা সদস্যের নাম রয়েছে।
ট্রাম্পের পূর্ববর্তী অভিযোগ ও উত্তেজনা
উল্লেখ্য, গত জানুয়ারির বিক্ষোভে হাজারো মানুষ নিহত হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছিলেন ট্রাম্প। সেইসঙ্গে আট শতাধিক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মানবাধিকার ইস্যু ঘিরে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা এখনো অব্যাহত রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে প্রকাশিত তথ্য এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবির মধ্যে ব্যাপক পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে মার্কিন প্রশাসনের প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এই বাকযুদ্ধ দুই দেশের মধ্যকার রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে। ইতিমধ্যে ট্রাম্প ইরানে সীমিত আকারে হামলার কথা ভাবছেন বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে।
এই সংকটের প্রেক্ষাপটে বিশ্ব সম্প্রদায়ের দৃষ্টি এখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোও এই ইস্যুতে সক্রিয়ভাবে নজর রাখছে এবং স্বাধীন তদন্তের দাবি জানাচ্ছে।
