শিশু গৃহকর্মী নির্যাতন মামলায় বিমানের সাবেক এমডির স্ত্রী বীথির আদালতে স্বীকারোক্তি
শিশু নির্যাতন মামলায় বিমানের সাবেক এমডির স্ত্রীর স্বীকারোক্তি

শিশু গৃহকর্মী নির্যাতন মামলায় বিমানের সাবেক এমডির স্ত্রীর আদালতে স্বীকারোক্তি

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাফিকুর রহমানের স্ত্রী বীথি আক্তার শিশু গৃহকর্মী নির্যাতনের মামলায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দুপুরে সাত দিনের রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি এই স্বীকারোক্তি প্রদান করেন।

আদালতে জবানবন্দি রেকর্ড ও কারাগারে প্রেরণ

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানার এসআই রোবেল মিয়া বীথিকে আদালতে হাজির করেন। আসামি স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় তদন্ত কর্মকর্তা তা রেকর্ড করার আবেদন জানান। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইসমাইল বীথির জবানবন্দি রেকর্ড করার পর তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই তাহমিনা আক্তার এই তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, "আসামি স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে চেয়েছিলেন, যা আদালতে রেকর্ড করা হয়েছে। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।"

অন্যান্য আসামিদের অবস্থা

এই মামলায় সাফিকুর রহমান এবং বাসার গৃহকর্মী সুফিয়া বেগমকেও শুক্রবার রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করা হয়। সাফিকুর প্রথমে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হলেও পরে অস্বীকৃতি জানান, ফলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। অন্যদিকে সুফিয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন এবং তিনিও কারাগারে প্রেরিত হয়েছেন।

এর আগে বুধবার অপর গৃহকর্মী রুপালী খাতুনকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।

মামলার পটভূমি ও অভিযোগের বিবরণ

গত ১ ফেব্রুয়ারি শিশু গৃহকর্মী নির্যাতনের ঘটনায় সাফিকুর রহমান, তার স্ত্রী বীথি আক্তার এবং বাসার দুই গৃহকর্মী রুপালী খাতুন ও সুফিয়া বেগমের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগীর বাবা গোলাম মোস্তফা। মামলা দায়েরের পর সকল আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ২ ফেব্রুয়ারি জামিন আবেদন নাকচ করে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

১০ ফেব্রুয়ারি আদালত সাফিকুর ও রুপালীকে পাঁচ দিন, বীথিকে সাত দিন এবং সুফিয়াকে ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।

নির্যাতনের কাহিনী

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরে সাফিকুরের বাসার নিরাপত্তাকর্মী জাহাঙ্গীর শিশু দেখাশোনার জন্য একটি মেয়ে খুঁজছিলেন। গোলাম মোস্তফার সঙ্গে তার দেখা হলে মেয়ের বিয়েসহ সকল খরচ বহনের প্রতিশ্রুতিতে তিনি গত বছরের জুন মাসে তার মেয়েকে ওই বাসায় কাজে পাঠান। সর্বশেষ গত বছরের ২ নভেম্বর তিনি মেয়েকে দেখতে গেলেও এরপর তাকে পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি।

৩১ জানুয়ারি বীথি ফোন করে মোস্তফাকে জানান যে তার মেয়ে অসুস্থ। সন্ধ্যা ৭টার দিকে মেয়েকে নিতে গেলে মোস্তফা দেখতে পান তার মেয়ের দুই হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম রয়েছে এবং সে ঠিকমতো কথা বলতে পারছে না। কারণ জিজ্ঞাসা করলে বীথি সদুত্তর দিতে পারেননি।

মেয়েকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানোর পর সে জানায়, ওই বাসায় তাকে মারধর করা ছাড়াও গরম খুন্তি দিয়ে শরীরে ছেঁকা দেওয়া হতো।

এই ঘটনায় সকল আসামি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন এবং বিচার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। শিশু অধিকার সংগঠনগুলো এই মামলায় কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে।