ঝাড়খণ্ডে জাদুটোনার সন্দেহে নারী ও শিশুপুত্রকে পুড়িয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ৪
ঝাড়খণ্ডে জাদুটোনার সন্দেহে নারী-শিশু হত্যা, গ্রেপ্তার ৪

ঝাড়খণ্ডে জাদুটোনার সন্দেহে নারী ও শিশুপুত্রকে পুড়িয়ে হত্যা

ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ঝাড়খণ্ডে জাদুটোনা করার অভিযোগে এক নারী ও তাঁর ১০ মাসের শিশুপুত্রকে পুড়িয়ে হত্যার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। গত মঙ্গলবার কুদসাই নামের একটি প্রত্যন্ত গ্রামে এই হামলা চালানো হয়, যেখানে জ্যোতি সিংকু নামের ওই নারী ও তাঁর শিশুপুত্র নৃশংসভাবে মারা যান।

গ্রেপ্তার ও তদন্তের অগ্রগতি

এ ঘটনায় পুলিশ ইতিমধ্যে চারজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং হত্যা ও ফৌজদারি ষড়যন্ত্রের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। হামলাকারী দলের অন্যান্য সদস্যদের ধরতে একটি বিশেষ পুলিশ দল গঠন করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিরা এখনো প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি এবং পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।

হামলার সময় জ্যোতি সিংকুর স্বামী কোলহান সিংকুর ওপরও আক্রমণ চালানো হয়, যিনি গুরুতর দগ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। কোলহান সিংকু জানান, প্রায় এক ডজন লোকের একটি দল তাঁদের বাড়িতে হামলা চালায় এবং তিনি বিষয়টি গ্রাম পরিষদে মীমাংসা করার জন্য অনুরোধ করলেও হামলাকারীরা তাঁর কথা শোনেনি।

ঘটনার পটভূমি ও কুসংস্কারের প্রভাব

এই হত্যাকাণ্ডের পিছনে স্থানীয় গুজব ও কুসংস্কারকে দায়ী করা হচ্ছে। গ্রামে হঠাৎ গবাদিপশুর মৃত্যু এবং পুস্তুন বিরুয়া নামের এক ব্যক্তির অসুস্থতা ও মৃত্যুকে ঘিরে গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে, জ্যোতি সিংকু জাদুটোনা করেন এবং তাঁর জন্য এই ঘটনাগুলো ঘটছে। পুস্তুন বিরুয়ার স্ত্রী জানো বিরুয়া বলেন, তাঁর স্বামী উদ্বেগজনিত জটিলতায় ভুগছিলেন, কিন্তু দারিদ্র্যের কারণে তাঁকে দূরের হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয়নি, বরং একজন হাতুড়ে স্বাস্থ্যসেবা কর্মীর শরণাপন্ন হয়েছিলেন।

ভারতের ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে দেশটিতে কালোজাদু করার সন্দেহে ২ হাজার ৫০০-এর বেশি মানুষকে হত্যা করা হয়েছে, যাদের বেশির ভাগই নারী। এই ধরনের ঘটনা সাধারণত দরিদ্র ও প্রান্তিক ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত অঞ্চলগুলোয় বেশি দেখা যায়, যেখানে পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যব্যবস্থার অভাবে বাসিন্দারা হাতুড়ে চিকিৎসকদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন।

অন্যান্য ঘটনা ও পুলিশের পদক্ষেপ

ঝাড়খণ্ডের এই ঘটনার কয়েক মাস আগে প্রতিবেশী বিহার রাজ্যেও জাদুটোনার অভিযোগে একই পরিবারের পাঁচ সদস্যকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছিল, যেখানে অভিযোগ আছে যে তাঁদের জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হয়। এসব ঘটনা ভারতের গ্রামীণ এলাকায় কুসংস্কারের ব্যাপক প্রভাব এবং সহিংসতার ঝুঁকি তুলে ধরে।

পুলিশ জানিয়েছে, কুসংস্কারের বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়াতে গ্রামীণ এলাকাগুলোয় বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজন করা হবে। কুদসাই গ্রামটি রাজ্যের রাজধানী রাঁচি থেকে প্রায় ২৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত, যেখানে প্রায় ৫০টি মাটির ঘর রয়েছে এবং সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা এই সহিংসতাকে উসকে দিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।