ইসরায়েলি কারাগারে ফিলিস্তিনি বন্দিরা রমজান শুরু হওয়ার খবর জানেন না
বিশ্বের প্রায় সব দেশেই ১৮ ও ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে পবিত্র রমজান মাস শুরু হয়েছে। তবে ইসরায়েলের কারাগারে বন্দি ফিলিস্তিনিরা রোজা শুরু হওয়ার খবর জানেন না বলে এক আইনজীবীর বর্ণনায় উঠে এসেছে। শুক্রবার জর্ডান-ভিত্তিক গণমাধ্যম রয়া নিউজ এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
আদালতে বিস্মিত প্রশ্ন: 'আজ কি রমজান?'
ফিলিস্তিনি বন্দি ও সাবেক বন্দি বিষয়ক কমিশনের আইনজীবী খালেদ মহাজনেহ বলেন, পবিত্র রমজান মাসের প্রথম দিনে বুধবার গিলবোয়া কারাগারে এক বন্দির আদালত শুনানিতে উপস্থিত হয়ে তিনি আবেগঘন এক দৃশ্যের সাক্ষী হন। খালেদের বক্তব্য অনুযায়ী, আদালতকক্ষে প্রবেশের সময় তিনি বন্দিকে রমজানের শুভেচ্ছা জানান। এ সময় ফিলিস্তিনি বন্দি বিস্মিত হয়ে প্রশ্ন করেন, 'আজ কি রমজান?'। তিনি আরও বলেন, 'রোজা শুরু হয়েছে আমাদের কেউ জানায়নি।'
কঠোর বিধিনিষেধ ও যোগাযোগ সীমাবদ্ধতা
আইনজীবী খালেদ মহাজনেহ বলেন, এই ঘটনা ফিলিস্তিনি বন্দিদের কঠিন মানবিক বাস্তবতাকে তুলে ধরে। কঠোর যোগাযোগ সীমাবদ্ধতা ও কারাকক্ষে গণমাধ্যমের বিধিনিষেধের কারণে গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় দিবস সম্পর্কেও অনেক বন্দি তথ্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, কারা কর্তৃপক্ষ বন্দিদের ওপর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা অব্যাহত রেখেছে, যার মধ্যে ধর্মীয় বিষয় পালনও অন্তর্ভুক্ত।
সেহরি ও ইফতারের কঠিন পরিস্থিতি
খালেদ মহাজনেহর দাবি, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনেক বন্দি সেহরি ছাড়াই রোজা রাখতে হয়েছে, আর ইফতারেও থাকে না তেমন কোনো খাবার। তিনি বলেন, দুই বছরের বেশি সময় ধরে বন্দিদের সামান্য খাবার দিয়ে ইফতার করতে হয়। তার মতে, দৈনন্দিন জীবনে বিশেষ করে ধর্মীয় বিষয় পালনে এ ধরনের ব্যবহার অত্যন্ত নিন্দনীয়।
মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো ইসরায়েলি কারাগারে বন্দি ফিলিস্তিনিদের কঠোর পরিস্থিতি এবং বিধিনিষেধের সম্মুখীন হওয়ার বিষয়টি বারবার উল্লেখ করেছে। এই ঘটনা ফিলিস্তিনি বন্দিদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের আরেকটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
