ভারতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের প্রথম সফর: দিল্লিতে জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবারের মতো ভারত সফরে গিয়ে খলিলুর রহমান দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করেছেন। আজ বুধবার দুপুরে দিল্লির ঐতিহাসিক হায়দরাবাদ হাউসে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় ও আঞ্চলিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে।
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নতুন অধ্যায়
কূটনৈতিক সূত্রগুলো থেকে জানা গেছে, বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে গভীরভাবে কথা বলা হয়েছে। বিশেষ করে, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে যে টানাপোড়েনের সৃষ্টি হয়েছিল, গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার গঠনের মাধ্যমে সেই সম্পর্কের বরফ গলার ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের প্রথম মন্ত্রী হিসেবে খলিলুর রহমানের ভারত সফরকে একটি 'শুভেচ্ছা' সফর হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
আলোচনার বিস্তারিত
আনুষ্ঠানিক বৈঠকের পর খলিলুর রহমান ও এস জয়শঙ্কর একান্ত আলোচনায় মিলিত হন। বৈঠকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও উপস্থিত ছিলেন, যিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে দিল্লি গেছেন। বৈঠকের আগে, সকালে খলিলুর রহমান ভারতের কয়েকজন সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রাতঃরাশ সভায় যোগ দেন, যা দুই দেশের মধ্যে সাংবাদিকতা ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর ইঙ্গিত দেয়।
বিকেলে ভারতের পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসবিষয়ক মন্ত্রী হারদীপ সিং পুরির সঙ্গে তাঁর বৈঠকের কথা রয়েছে, যা জ্বালানি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার দিকে মনোনিবেশ করবে। গতকাল দিল্লি পৌঁছানোর পর, খলিলুর রহমান ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন, যেখানে পারস্পরিক মর্যাদা ও আস্থার ভিত্তিতে দীর্ঘ মেয়াদে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে।
সফরের পরবর্তী পরিকল্পনা
খলিলুর রহমান ও হুমায়ুন কবির আগামীকাল সকালে মরিশাসের উদ্দেশে দিল্লি ছাড়বেন, যেখানে ১১ ও ১২ এপ্রিল রাজধানী পোর্ট লুইসে ভারত মহাসাগরীয় সম্মেলনে যোগ দিতে যাচ্ছেন। এই সম্মেলনে অংশগ্রহণ আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সহযোগিতা বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়ার আগে, অন্তর্বর্তী সরকার আমলে খলিলুর রহমান বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার দায়িত্বে ছিলেন, যা তাঁর এই সফরে নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক অভিজ্ঞতার সমন্বয় ঘটাচ্ছে। এই সফরটি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে উভয় দেশই আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে।



