অস্ট্রেলিয়ার স্পিকার মিল্টন ডিকের ঢাকা সফর: দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন গতি সঞ্চারের প্রত্যাশা
অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টের স্পিকার মিল্টন ডিক একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল নিয়ে চলতি সপ্তাহে ঢাকা সফরে আসছেন। বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠনের পর এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন গতি সঞ্চার হবে বলে আশা করা হচ্ছে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে এক সৌজন্য বৈঠকে ঢাকার অস্ট্রেলীয় হাই কমিশনার সুসান রাইল এই সফরের বিস্তারিত তুলে ধরেন।
সফরের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম ও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সফরকালে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধিদলটি জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ও প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ করবেন। তারা জাতীয় সংসদ ভবনের স্থাপত্যশৈলী এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করবেন। এছাড়া প্রতিনিধিদলটি জাতীয় সংসদের চলমান অধিবেশনের কার্যক্রম সরাসরি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি সংসদীয় বিভিন্ন প্রক্রিয়া সম্পর্কে ধারণা নেবেন।
বৈঠকে দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মেটাতে অস্ট্রেলিয়া থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের সম্ভাবনা নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা করেন হাই কমিশনার সুসান রাইল। এছাড়া কৃষি খাতের উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির সুযোগগুলো নিয়েও আলাপ-আলোচনা হয়।
শ্রমশক্তি ও নারীর ক্ষমতায়নে বিশেষ গুরুত্ব
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এই সফরে বাংলাদেশের শ্রমশক্তির দক্ষতা উন্নয়ন ও নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়গুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, অস্ট্রেলীয় স্পিকারের এই সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুসংহত হবে এবং উন্নয়ন সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি হবে। এই আলোচনাগুলো দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও সামাজিক সহযোগিতাকে আরও গভীর করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
সামগ্রিকভাবে, এই সফরটি বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক বন্ধনকে শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দুই দেশের মধ্যে পার্লামেন্টারি আদান-প্রদান ও উচ্চপর্যায়ের সংলাপ ভবিষ্যতে আরও ব্যাপক সহযোগিতার দিকে নিয়ে যেতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হচ্ছে।



